নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফর ঘিরে কূটনৈতিক মহলের পাশাপাশি নজর রয়েছে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে পুতিনের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে খবর। তালিকায় রয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের সু-৫৭ যুদ্ধবিমান, সুখোই-৩০ এমকেআইয়ের আধুনিকীকরণ, এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যান্টসির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। তার আগে শুক্রবারই দিল্লিতে পৌঁছেছেন পুতিন। সম্মেলনের ফাঁকে মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি পরমাণু শক্তি, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে রাশিয়ার সু-৫৭ যুদ্ধবিমান নিয়ে। গত মার্চে ভারতকে সু-৫৭ই যুদ্ধবিমানের যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল মস্কো। এমনকি যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত তথ্য ও সোর্স কোড দেওয়ার বিষয়েও রাশিয়ার তরফে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে মোদী-পুতিন বৈঠকে এই প্রস্তাব কতটা এগোয়, সেদিকেই নজর প্রতিরক্ষা মহলের।
ভারতের জন্য এই প্রস্তাবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ দেশীয়ভাবে উন্নত যুদ্ধবিমান তৈরির পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরের উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। মিগ-২১, মিগ-২৭, মিগ-২৯ থেকে শুরু করে সুখোই-৩০ এমকেআই ভারতীয় বায়ুসেনায় একাধিক রুশ যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হয়েছে।
এর পাশাপাশি সুখোই-৩০ এমকেআইয়ের আধুনিকীকরণ বা ‘সুপার সুখোই’ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এই প্রকল্পে উন্নত রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, নেভিগেশন প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভারতীয় বায়ুসেনার বর্তমান সুখোই বহরের সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।
আলোচনার তালিকায় থাকতে পারে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও। ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে আরও এস-৪০০ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রস্তাব নিয়ে এগিয়েছে ভারত। ভবিষ্যতে আরও উন্নত এস-৫০০ ব্যবস্থা কেনার সম্ভাবনাও বৈঠকে উঠে আসতে পারে।
পাশাপাশি প্যান্টসির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যৌথ উৎপাদন নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ড্রোন, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার জন্য এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
প্রতিরক্ষা ছাড়াও ভারতে নতুন রুশ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, অসামরিক পরমাণু সহযোগিতা এবং দুই দেশের বাণিজ্যে ডলার নির্ভরতা কমিয়ে টাকা-রুবলের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যে পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়েও দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কথা হতে পারে।
সব মিলিয়ে পুতিনের এই সফর শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরবর্তী অধ্যায়ের দিকনির্দেশও দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।