নয়াদিল্লি: রাজধানীতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। তার জেরে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে দিল্লি। আর সেই কড়া নিরাপত্তার প্রভাব এ বার পড়ল রেল পরিষেবাতেও। ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে একাধিক ট্রেন বাতিল, কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথ বদল এবং বহু ট্রেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। উত্তর রেলের তরফে জারি করা পরিচালন পরিকল্পনায় এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে নয়াদিল্লি স্টেশনে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঘুরপথে চালানো ট্রেনগুলির চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতেই এই ব্যবস্থা বলে রেল সূত্রে খবর। ফলে দিল্লি-এনসিআর দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের আগামী তিন দিন বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১১ সেপ্টেম্বর থেকেই বদল। এ দিন বেশ কয়েকটি স্থানীয় EMU ও MEMU ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পালওয়াল-শকুরবস্তি ৬৪০১৫, গাজিয়াবাদ-নয়াদিল্লি ৬৪৪২৯ ও ৬৪৪৩৩, নয়াদিল্লি-পালওয়াল ৬৪৪৯২ এবং দিল্লি জংশন-শামলি ৬৪৪৯১। কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথের শুরু বা শেষ স্টেশনও বদলে দেওয়া হয়েছে। যেমন, ৬৪১১০ নম্বর ট্রেনটি নয়াদিল্লির বদলে গাজিয়াবাদ থেকে ছাড়বে। ৬৪৫৬৮ নম্বর ট্রেনটি ছাড়বে দিল্লি শাহদরা থেকে এবং ৬৪৫৬৭-এর যাত্রা শেষ হবে সেখানেই।
সবচেয়ে বেশি নজর অবশ্য দূরপাল্লার ট্রেনগুলির দিকে। ১১ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লি-রাঁচী, নয়াদিল্লি-ডিব্রুগড়, নয়াদিল্লি-শিয়ালদহ, নয়াদিল্লি-হাওড়া এবং নয়াদিল্লি-ভুবনেশ্বর রাজধানি এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলিকে ঘুরপথে চালানো হবে। সম্পূর্ণ ক্রান্তি এক্সপ্রেসও সেই তালিকায় রয়েছে। এই ট্রেনগুলি নয়াদিল্লি-দিল্লি জংশন-সাহিবাবাদ রুট দিয়ে চলবে।
শুধু পথ বদল নয়, দেরিও হবে একাধিক ট্রেনের। নয়াদিল্লি-হায়দরাবাদ এক্সপ্রেস এবং গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ১২০ মিনিট দেরিতে ছাড়বে। পশ্চিম এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে দেরি হতে পারে ৯০ মিনিট এবং নয়াদিল্লি-কাসগঞ্জ ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ৭৫ মিনিট দেরিতে ছাড়ার কথা।
১২ সেপ্টেম্বরও বাতিল-ঘুরপথ। পরের দিন আরও বেশি সংখ্যক লোকাল ট্রেনের পরিষেবা ব্যাহত হবে। গাজিয়াবাদ, নয়াদিল্লি, পালওয়াল, শকুরবস্তি এবং দিল্লি জংশনের মধ্যে চলাচলকারী একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। তবে রেলের পরিকল্পনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কিছু বাতিলের সঙ্গে ব্রিকসের সরাসরি সম্পর্ক নেই; ফরিদাবাদ সেকশনে RLDA-র চলা কাজও তার অন্যতম কারণ।
এই দিন গোমতী এক্সপ্রেস, শ্রমজীবী এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ রাজধানি এবং হাওড়া রাজধানি-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনও ঘুরপথে চলবে। তেজস রাজধানি ২৫ মিনিট, নয়াদিল্লি-ভুবনেশ্বর তেজস রাজধানি ২০ মিনিট এবং নয়াদিল্লি-রাজেন্দ্রনগর তেজস রাজ এক্সপ্রেস ১৫ মিনিট দেরিতে ছাড়ার কথা। অমৃত ভারত পরিষেবাতেও ৩৫ মিনিট দেরি হতে পারে।
১৩ সেপ্টেম্বরেও কাটছাঁট চলবে। পালওয়াল-গাজিয়াবাদ, গাজিয়াবাদ-দিল্লি জংশন, গাজিয়াবাদ-শকুরবস্তি এবং নয়াদিল্লি-গাজিয়াবাদ রুটের একাধিক EMU বাতিলের তালিকায় রয়েছে। বানারস-নয়াদিল্লি সুপারফাস্ট-সহ আরও কিছু ট্রেনের রুট বদলাবে। কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই যাত্রা শেষ করবে—পালওয়াল, গাজিয়াবাদ, শকুরবস্তি, হজরত নিজামুদ্দিন কিংবা দিল্লি শাহদরা হতে পারে সেই শেষ স্টেশন। তেজস রাজধানি এবং অমৃতসর-ভিশাখাপত্তনম হিরাকুদ এক্সপ্রেসের সময়সূচিতেও পরিবর্তন রয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলনের জন্য শুধু রেল নয়, দিল্লির সড়ক যোগাযোগেও একাধিক নিয়ন্ত্রণ জারি হয়েছে। দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে ১১–১৩ সেপ্টেম্বরের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে এবং যাত্রীদের বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বেরোতে বলা হয়েছে।
ফলে এই তিন দিন দিল্লি-এনসিআর দিয়ে ট্রেনে যাতায়াতের আগে টিকিট থাকলেই নিশ্চিন্ত হওয়ার উপায় নেই। রেলের পরামর্শ, স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের সর্বশেষ চলাচলের তথ্য অবশ্যই দেখে নিতে হবে। জাতীয় ট্রেন অনুসন্ধান ব্যবস্থা (NTES) অথবা রেলের ১৩৯ নম্বরে ফোন করে আপডেট জানা যাবে। কারণ, পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সময়সূচিতে ফের পরিবর্তনও হতে পারে।