নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কের সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছিল। সীমান্তে উত্তেজনা থেকে শুরু করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন একাধিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। সেই আবহেই এবার ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস লিডারস সামিট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সূত্রের খবর, এই সম্মেলনে যোগ দিতে শি জিনপিং ভারতে আসতে পারেন এবং সম্মেলনের ফাঁকে মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত ভারত বা চিন—কোনও দেশের তরফেই এই বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
সম্ভাব্য এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত পরিস্থিতি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা LAC-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার প্রভাব দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্কেও পড়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পরিসর ফের কিছুটা বাড়তে দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO সম্মেলনে মোদী ও জিনপিংয়ের সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেখানে দুই রাষ্ট্রনেতা হাত মেলালেও কোনও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি। ফলে এবার ব্রিকসের মঞ্চে তাঁরা মুখোমুখি আলোচনায় বসলে সেটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়ে এখনও কোনও সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের পর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের চিন সফরের কথাও রয়েছে। ফলে পরপর এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
২০২০ সালের জুনে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্তে উত্তেজনা বজায় ছিল। সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে একাধিক দফায় আলোচনা হয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য।
এখন ব্রিকস সম্মেলনের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মোদী ও জিনপিং সত্যিই কি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন? যদি বৈঠক হয়, তাহলে সীমান্ত সমস্যা থেকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক, কোন কোন বিষয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।