কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে দমদম পুরসভার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা বরুণ নট্টকে গ্রেফতার করল পুলিশ। একই মামলায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন নয়নাশিস দাস ওরফে জনি এবং সুমন্ত ঘোষ ওরফে লাল্টু। শুক্রবার তিনজনকেই ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দমদম থানায় প্রোমোটার সুজয় মজুমদার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপরই বরুণ নট্ট-সহ তিনজনকে তাঁদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রতারণা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, কারণ গ্রেফতারের ঠিক আগেই অভিযোগকারী প্রোমোটার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ গিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অভিযোগ জানানোর মাত্র দু’দিনের মধ্যেই প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ তিনজন গ্রেফতার হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
পুলিশের দাবি, অভিযোগের প্রকৃতি এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তোলাবাজির ঘটনায় বরুণ নট্ট ও অন্য দুই অভিযুক্তের সরাসরি যোগ ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি অভিযোগের পিছনে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে সেই টাকা কীভাবে দেওয়া বা নেওয়া হয়েছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ধৃত নয়নাশিস দাসকে স্থানীয়ভাবে বরুণ নট্টের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তিনি দমদম পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর পর্ণা দাসের ছেলে। অপর ধৃত সুমন্ত ঘোষ ওরফে লাল্টুর ভূমিকা কী ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, অভিযোগের সম্পূর্ণ চিত্র জানতে তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সেই কারণে তাঁদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের হেফাজত চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানাতে পারে তদন্তকারী দল।
এই মামলায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে অভিযোগকারীর যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখা হতে পারে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও নাম সামনে আসে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে পুলিশের।
এদিকে, প্রাক্তন উপপুরপ্রধানের গ্রেফতারির ঘটনায় দমদমের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ধৃতদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখা যাবে না। এখন পুলিশের তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর।