জলপাইগুড়ি, নিউজ ডেস্ক: জলপাইগুড়ি শহরের উত্তর রায়কত পাড়ার একটি বৃহন্নলা আবাসনে বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, বাংলাদেশের সিমকার্ড এবং বাংলাদেশের বার্থ সার্টিফিকেট উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় পিপাসা হিজরা নামে এক গুরুমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ঘিরে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই উত্তর রায়কত পাড়ার ওই বাড়িতে অভিযান শুরু হয়। বাড়ি এবং আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে বিএসএফ ও পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় ন’ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। পুলিশের দাবি, অভিযানে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড কার্তুজ এবং দু’টি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি পাওয়া গিয়েছে বাংলাদেশের দু’টি সিমকার্ড এবং একটি বাংলাদেশি বার্থ সার্টিফিকেট।
তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি সিমকার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে নিয়মিত ফোন করা হত। যদিও এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সিমকার্ডগুলি কে ব্যবহার করতেন এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হত, সেই তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।
এই অভিযানের পর ওই আবাসনের আর্থিক ও সামাজিক গতিবিধিও তদন্তের আওতায় এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দশ বছর আগে বৃহন্নলাদের একটি পরিবার উত্তর রায়কত পাড়া এলাকায় বসবাস শুরু করে। প্রথমদিকে তাঁরা ভাড়া বাড়িতে থাকলেও পরবর্তীকালে সেই বাড়ি কিনে নেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের বেশ কিছু জমির মালিক হন বলে দাবি। অল্প সময়ের মধ্যে বড়সড় প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি হওয়া নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ছিল।
অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানোর সময় আবাসনে থাকা সদস্যদের একে একে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের হাতের ছাপও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র কোথা থেকে এল এবং সেগুলি কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রের দাবি, সম্প্রতি মনসা পুজোর আগে ও পরে প্রায় ৩৫ জন বাংলাদেশি বৃহন্নলা ওই বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁদের আগমন কেন, কতদিন তাঁরা সেখানে ছিলেন এবং পরে কোথায় গিয়েছেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।
এর পাশাপাশি পিপাসা হিজরা সম্প্রতি পাকিস্তানে গিয়েছিলেন বলে যে তথ্য সামনে এসেছে, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।
তবে পিপাসা হিজরা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, বাংলাদেশি সিমকার্ড, বার্থ সার্টিফিকেট এবং বিদেশি যোগাযোগের অভিযোগ—সবকিছুর মধ্যে আদৌ কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। গ্রেফতার হওয়া পিপাসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
নিউজ সোর্স: