কলকাতা: বালুরঘাটের এক মহিলার অভিযোগ ও তাঁর মৃত্যু ঘিরে পুরনো বিতর্ক ফের উসকে দিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। এ বার সরাসরি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের হস্তক্ষেপের দাবি করলেন তিনি। কুণালের দাবি, তাঁর পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্য সরকারের মুখ্যসচিবকে ওই মামলা এবং অভিযোগের বিষয়টি ‘যথাযথ ভাবে’ ফের খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। যদিও এই দাবির বিষয়ে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের তরফে স্বাধীন ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে কুণাল দাবি করেছেন, বালুরঘাটের ওই মহিলার অভিযোগ, তাঁর মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট নথি এবং ছবি-সহ যাবতীয় তথ্য তুলে ধরে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, সেই চিঠি বিবেচনা করেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে মামলাটি ‘রি-ওপেন’ করে বিষয়টি যথাযথ ভাবে পুনরায় তদন্তের পর কেন্দ্রকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তৃণমূল নেতার।
কুণালের দাবি, জন্মাষ্টমীর দিন সেই চিঠির প্রতিলিপি তাঁর হাতে পৌঁছেছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন। তবে এখানেই থামেননি কুণাল। তাঁর পোস্টের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ঋতব্রতকে ব্যক্তিগত আক্রমণ। বিরোধী দলনেতাকে ‘চাটন’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই মহিলার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকলে তার প্রকৃত কারণ কী, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
কুণালের বক্তব্য, অতীতে এই ঘটনায় কেউ অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করে থাকলে কিংবা তদন্তে গাফিলতি হয়ে থাকলে, সেই ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রশাসনের কোনও আধিকারিক অভিযুক্তকে বাঁচানোর চেষ্টা করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তাঁর চিঠি বিবেচনা করেছে বলে দাবি করে অমিত শাহকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি এখন নিরপেক্ষ ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এর পাশাপাশি ঋতব্রতের ঘনিষ্ঠ মহলকেও আক্রমণ করেছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর সঙ্গে যাঁরা নিয়মিত ওঠাবসা করছেন, তাঁদের উদ্দেশে কুণালের প্রশ্ন, এমন অভিযোগে ঘেরা একজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে থাকা নিয়ে তাঁরা নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করছেন কি না। চাপ সামলাতে ঋতব্রত ফের দিল্লির নেতাদের দরবারে যেতে পারেন বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
স্বাভাবিক ভাবেই কুণালের এই পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। কারণ, ঋতব্রতকে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতও গত কয়েক মাসে প্রকাশ্যে এসেছে। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে পৃথক রাজনৈতিক শিবিরের উত্থান হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতিও পেয়েছেন ঋতব্রত।
এই আবহেই ২১ জুলাইয়ের সভা থেকে ঋতব্রত-শিবিরকে আক্রমণ করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দল ভেঙে আলাদা শিবির তৈরি করলেই ‘আসল তৃণমূল’ হওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। মমতার কথায়, ‘‘ভয় দেখিয়ে কিছু মানুষকে কিছু সময়ের জন্য চুপ করানো যায়। কিন্তু আসল তৃণমূল আমরা। শুধু সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিলেই দল হয়ে যায় না।’’
ফলে বালুরঘাটের পুরনো মামলা ঘিরে কুণালের নতুন দাবি শুধু একটি অভিযোগ বা তদন্তের প্রশ্নে আটকে থাকছে না। তার সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতি এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতও। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চিঠি নিয়ে কুণালের দাবির প্রেক্ষিতে ঋতব্রত কী প্রতিক্রিয়া জানান এবং এ ব্যাপারে রাজ্য আগামী দিনে কী পদক্ষেপ করে৷