বারুইপুর, নিউজ ডেস্ক: দিনের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। চারপাশে চলছে শিক্ষক দিবসের আয়োজন, আর সাথে প্রিয় শিক্ষকদের শুভেচ্ছা জানানোর প্রস্তুতি। কোথাও প্রিয় শিক্ষকের হাতে ফুল, কোথাও শ্রদ্ধার্ঘ্য, কোথাও আবার স্মৃতিচারণ। কিন্তু সেই একই সকালে এমন একটি দৃশ্য সামনে এল, যা দেখে কার্যত থমকে গেলেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের চোখ আটকে গেল একটি ঝোপের দিকে। যে জায়গাটিকে ঘিরে শ্রদ্ধা ও স্মৃতির অনুভূতি থাকার কথা, সেখানে পড়ে রয়েছে বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হল জল্পনা।
ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের। সূত্রে খবর, শিক্ষক দিবসের দিন সকালে বারুইপুর মহকুমা শাসকের দফতর এবং পুরসভা ১১ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন বিদ্যাসাগর শিশু উদ্যানের পাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি ঝোপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
অভিযোগ, পার্কের বেদী থেকে মূর্তিটি উপড়ে পাশে থাকা ঝোপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কারণ, ৫ সেপ্টেম্বরের মতো একটি ঐতিহাসিক দিনে যেখানে শিক্ষক এবং শিক্ষাকেন্দ্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে, ঠিক সেই দিনেই বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষাবিদ বিদ্যাসাগরের মূর্তির এমন অপমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যাসাগরের মূর্তিটি ওই শিশুউদ্যানে স্থাপন করা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই উদ্যানটির রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ছিল। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে ধীরে ধীরে উদ্যানটি কার্যত জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গিয়েছে পার্কের বিভিন্ন অংশ।
ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে পুরসভার ভূমিকা নিয়েও। মহকুমা শাসকের দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও কিভাবে একটি মূর্তি বেদী থেকে উপড়ে ফেলা হল,তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে।
তবে, এখনও স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি কারা এবং কিভাবে এই কাজ করেছে। মূর্তিটি সরানোর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল কি না, নাকি দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এই উত্তরও সামনে আসিনি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি, ঝোপ থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করে পুনরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মূর্তিটি বেদীতে স্থাপন করতে হবে বলে দাবি জানান।
শিক্ষক দিবসের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে বর্ণপরিচয়ের স্রষ্টা ও সমাজ সংস্কারক বিদ্যাসাগরের মূর্তি এভাবে পড়ে থাকায় সামনে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। সমাজে শিক্ষার আলো যার হাতে ছড়িয়েছিল তাঁর এমন চরম অপমানে যেন সামনে আসছে শিক্ষার অবমাননা।