কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: পাওয়ারলিফটিংয়ে সম্প্রতি দেশের হয়ে রুপো জিতেছেন কেয়া ব্যানার্জি। কিন্তু সাফল্যের আলোয় পা রাখার পরেই এই প্রবাসী বঙ্গতনয়াকে ঘিরে নেমে এল এক রাশ অন্ধকার। ২০২৬ আইপিএফ ওয়ার্ল্ড সাব-জুনিয়র অ্যান্ড জুনিয়র ক্লাসিক পাওয়ারলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৭ কেজি বিভাগের জুনিয়র মহিলা বিভাগে নেমেছিলেন কেয়া। সেখানে ১৪০ কেজি ডেডলিফ্ট তুলে রুপো জেতেন তিনি। নিজের ওজনের ৩ গুণেরও বেশি ভার তোলার সেই অসাধারণ কীর্তির পর দেশজুড়ে প্রশংসার ঝড় ওঠে। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাই তাঁর জন্য নিয়ে আসে এক তিক্ত অভিজ্ঞতা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্টে কেয়া জানিয়েছেন, ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াবিদ হিসেবে তাঁকে অনলাইনে যৌন হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। শুধু তাই নয়। তাঁর নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে পরিচয় নকল করার অভিযোগও করেছেন তিনি। কেয়ার দাবি, তাঁর জাতি, বংশপরিচয় এবং কাস্ট নিয়ে নানা ধরনের অস্বস্তিকর আলোচনা চলেছে।
সূত্র: https://x.com/RT_com/status/2095816502012232049?s=20
তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে তাঁকে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তাঁর মুখ ও শরীর বিকৃত করে তৈরি করা হাজার হাজার ভুয়ো ছবি। নিজের এবং পরিচিতদের সোশ্যাল মিডিয়া ফিডে সেই অশ্লীল ছবিগুলি বার বার ভেসে ওঠা তাঁকে গভীরভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
দেশের রুপোজয়ী তারকা আরও জানিয়েছেন, তিনি বরাবরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। ফলে পুরনো অ্যাকাউন্টটি ছিল ব্যক্তিগত। সেখানে অনুসরণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০। কিন্তু সেটি সাসপেন্ড হয়ে যাওয়ার পরে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় তাঁকে। যদিও শুরুতে নতুন অ্যাকাউন্টটিও প্রকাশ্যে আনতে চাননি তিনি।
কিন্তু নিজের খেলা এবং সাফল্য নিয়ে কী বলা হচ্ছে, তার উপর নিজের বক্তব্য রাখার জন্য শেষ পর্যন্ত সেটি প্রকাশ্য করতে বাধ্য হন। তাঁর কথায়, পাওয়ারলিফটিং তাঁর কাছে মূলত নিজেকে চ্যালেঞ্জ করার এবং আনন্দ পাওয়ার একটি মাধ্যম। রাতারাতি সর্বত্র নিজের ছবি দেখতে পাওয়ার ইচ্ছা তাঁর কখনওই ছিল না।
জন্মসূত্রে বাঙালি হলেও কেয়া থাকেন হরিয়ানায়। জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্বও করেন সেই রাজ্যকেই। তবে তাঁর এই অভিজ্ঞতা ফের সামনে এনে দিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবি বিকৃতির ক্রমবর্ধমান বিপদকে। প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি তার অপব্যবহার যে বিশেষ করে মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্য কতটা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে, কেয়ার অভিযোগে তারই ছবি স্পষ্ট। মাঠে ১৪০ কেজি ওজন তুলে দেশকে গর্বিত করা ক্রীড়াবিদকে তাই এ বার লড়তে হচ্ছে অন্য এক অদৃশ্য প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। তাঁকে লড়তে হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার এবং AI-নির্ভর ভুয়ো ছবির বিরুদ্ধে।