কমনওয়েলথ গেমসে বাঙালি অস্মিতার হাত ধরে ইতিহাস গড়ল ভারত। মহিলাদের ৪৮ কেজি জুডো ইভেন্টে সোনা জিতে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় জুডোকা হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন ত্রিপুরার ২৩ বছরের অস্মিতা দে। শুক্রবারের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে কানাডার হেইডি কোয়াচকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে দেশকে আরও একটি সোনা এনে দেন অস্মিতা। নির্ধারিত সময়ে ফলাফল ১-১ থাকায় ম্যাচ গড়ায় 'গোল্ডেন স্কোর'-এ। সেখানেই দুর্দান্ত আক্রমণে একটি ইউকো আদায় করে ঐতিহাসিক জয় তথা সোনা নিশ্চিত করেন অস্মিতা।
ফাইনালের শুরুটা অবশ্য ভারতের পক্ষে ছিল না। প্রথমেই একটি ইউকো হারিয়ে পিছিয়ে পড়েছিলেন অস্মিতা। পরে একটি পেনাল্টিও পান। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় কোয়াচের হাতে। কিন্তু অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করেন ভারতের জুডোকা। আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মাঝপথেই স্কোর ১-১ করেন তিনি। এরপর নির্ধারিত সময়ে আর কেউই নির্ণায়ক পয়েন্ট তুলতে না পারায় লড়াই পৌঁছে যায় 'গোল্ডেন স্কোর'-এ। চাপের মুখে অবিশ্বাস্য সংযম রেখে শেষ পর্যন্ত জয়সূচক ইউকো আদায় করে সোনা নিশ্চিত করেছেন অস্মিতা।
দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়ার বাসিন্দা অস্মিতা দে'র সাফল্যের পথ সহজ ছিল না মোটেই। সাইকেল মেকানিক বাবার মেয়ে তিনি। আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেই নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গিয়েছেন। প্রথমে ৮০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিলেও পরে তাঁর প্রথম কোচের পরামর্শে জুডোয় আসেন। ২০১৫ সালে ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলে যোগ দেওয়ার পর জাতীয় স্কুল গেমস ও খেলো ইন্ডিয়ায় নজরকাড়া পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০১৮ সালে ভোপালের ভারতীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের (SAI) ন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্সে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি খেলো ইন্ডিয়ার অন্যতম সফল অ্যাথলিট।
আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ধারাবাহিক সাফল্যের নজির গড়েছেন অস্মিতা। ২০২৫ সালে কাসাব্লাঙ্কা আফ্রিকান ওপেনে সোনা। ২০২৪ কমনওয়েলথ জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ। ২০২৩ জুনিয়র এশিয়া কাপ জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা। একই বছরে কুয়েত সিটির এশিয়ান ওপেনে রুপো এবং ২০২২ এশিয়ান জুনিয়র জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের সিনিয়র এশিয়ান জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে পঞ্চম স্থান অর্জনের পর এবার কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সোনা জিতে ভারতীয় জুডোর ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখলেন অস্মিতা দে।