স্পোর্টস ডেস্ক: কেটে গেল আশঙ্কার মেঘ। আগামী ৩ অক্টোবর যুবভারতীতেই হচ্ছে ভারত বনাম ব্রাজিল মহারণ। সল্টলেকের মাঠ দেখে অবশেষে সবুজ সংকেত দিল ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন। এর আগে মাঠের অবস্থা খতিয়ে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল। তবে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মাঠ দেখে এখন সন্তুষ্ট ব্রাজিল। ফলে নির্ধারিত সূচি মেনেই ঐতিহাসিক ম্যাচ আয়োজনের পথে আর বড় কোনও বাধা থাকল না।
গত অগাস্টের মাঝামাঝি কলকাতায় এসেছিল ব্রাজিলের একটি প্রতিনিধি দল। যুবভারতীর মূল মাঠ এবং অনুশীলনের মাঠ, দু’টিই ঘুরে দেখেন তাঁরা। দলের নেতৃত্বে ছিলেন পুরুষ জাতীয় দলের জেনারেল সুপারভাইজার সার্জিও ডিমাস দে অলিভেইরা এবং জোসে ভিটর। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এবং পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া দফতরের প্রতিনিধিরাও। মাঠ পরিদর্শনের পর কয়েকটি বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল। সারফেসের চরিত্র নিয়েও আলোচনা হয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে। সেই সময় ব্রাজিলের অসন্তোষ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
তবে এখন আর সেই আপত্তির কোনও জায়গা নেই বলেই জানা যাচ্ছে। ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন সূত্র খবর, যুবভারতীরকে আগামী ৩ অক্টোবরের ঐতিহাসিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী মাসে কলকাতায় ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নামার প্রস্তুতি আরও জোরকদমে এগোতে পারবে। তারকা সমৃদ্ধ দল নিয়ে ভারতে আসছে ব্রাজিল। কোচ কার্লো আনচেলত্তির বেছে নেওয়া দলে রয়েছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনিয়া, এন্দ্রিক, এস্তেভাও, জোয়াও পেদ্রো, মারকিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ব্রুনো গিমারায়েসদের মতো ফুটবলার। ফলে কলকাতার ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই উন্মাদনা তুঙ্গে।
ভারতের সঙ্গে ম্যাচের আগে ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের মুখোমুখি হওয়ার পর নভেম্বরে এশিয়া সফরে যাবে তারা। ১৪ নভেম্বর জাপান এবং ১৭ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে খেলবে ব্রাজিল। ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অবশ্য কলকাতার ম্যাচটির আলাদা আবেগ রয়েছে। ১৯৭৭ সালে কিংবদন্তি পেলের নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে কলকাতায় খেলতে আসার স্মৃতি এখনও অমলিন। এ বার পেলের উত্তরসূরিদের মধ্যে ভিনি-রাফিনিয়া-এন্দ্রিকদের দেখতে যুবভারতীতে চোখ থাকবে গোটা দেশের। মাঠ নিয়ে সংশয় মিটে যাওয়ায় সেই অপেক্ষাতেই এ বার যোগ হল আরও এক স্বস্তির খবর।