স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের পর মঙ্গলবার ফের সেই পুরনো মেজাজে দেখা গেল সঞ্জু স্যামসনকে। আফগানদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে যাবতীয় সমালোচনার জবাব দিলেন তিনি। ২২ বলে ৫৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে মাত্র ১৪.৫ ওভারেই টিম ইন্ডিয়াকে ৭ উইকেটের জয় এনে দেন তিনি। অভিষেক শর্মার সঙ্গে তাঁর ৮৮ রানের ওপেনিং জুটি বদলে দেয় ম্যাচের রং। আর সেই ইনিংসের পরই ফের সামনে এসেছে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে ওপেনিংয়ের জায়গা নিয়ে পুরনো প্রশ্ন। সঞ্জু, অভিষেক না কি ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী, কার জায়গা হবে একাদশে?
ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে অবশ্য কোনও বিতর্কে ঢুকতে চাননি সঞ্জু। তাঁর বক্তব্য, সূর্যবংশী এবং অভিষেক তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নন। বরং তাঁরা একে অপরের সতীর্থ। বাইরে থেকে এই লড়াইকে যতই প্রতিযোগিতা বলে দেখা হোক, দলের অন্দরে বিষয়টি একেবারেই তেমন নয়। দেশের হয়ে খেলতে নামলে ব্যক্তিগত সুযোগের আগে যে দলের জয়কেই গুরুত্ব দিতে হয়, সেটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন কেরলের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। তাঁর কথায়, কে সুযোগ পেলেন আর কে পেলেন না, তা নিয়ে অভিমান বা নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামলে ভারতীয় দলে টিকে থাকা সম্ভব নয়।
তবে সমাজ মাধ্যমে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মন্তব্য যে একেবারেই চোখে পড়ে না, তা-ও অস্বীকার করেননি সঞ্জু। মজার ছলে বলেছেন, তিনি যেন নিজের ‘ওয়াই-ফাই’ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু কখনও কখনও সেই ওয়াই-ফাই আবার চালু হয়ে যায়, আর তখনই চোখে পড়ে নানা মন্তব্য। কেউ সূর্যবংশীকে সঞ্জুর আগে খেলানোর পক্ষে, কেউ আবার অভিষেককে বাদ দেওয়ার কথা বলছেন। সঞ্জুর মতে, ভারতের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে বাইরের এই আলোচনা স্বাভাবিক ভাবেই প্রভাব ফেলে। তাই নিজের মানসিকতা পরিষ্কার রেখে প্রস্তুতি এবং ম্যাচে মন দেওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি।
সঞ্জু আরও জানিয়েছেন, অতীতে বাইরের মন্তব্য তাঁকে আঘাত করেছে। এখন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু ক্রিকেটাররাও মানুষ—যন্ত্র নন। কোনও মন্তব্যই যে একেবারে প্রভাব ফেলবে না, এমন দাবি করাও বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন তিনি। এ দিকে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে সঞ্জু এবং অভিষেককে ওপেন করতে দেখা গিয়েছে। শেষ ম্যাচে সূর্যবংশীকে ফেরানো নিয়ে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের ইঙ্গিতের পর স্বাভাবিকভাবেই নজর এখন ভারতীয় একাদশের দিকে। তবে সেই লড়াইকে সঞ্জু ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতা হিসেবে না দেখে দলের প্রয়োজন হিসেবেই দেখছেন।