কলকাতা: ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি)-র আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা। নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ নথি বিভিন্ন ক্লাবের কাছে পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে ক্যুরিয়র সংস্থার দুই কর্মী-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর ময়দান থানায় এই মামলা রুজু হয়েছে।
অভিযোগটি করেছেন ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের সদস্য গৌতম দে। তাঁর অভিযোগ, সিএবির নির্বাচন সংক্রান্ত নথি নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এমনকি কিছু নথি পাঠানোর জন্য যে কনসাইনমেন্ট নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলির কোনও ট্র্যাকিং হিস্ট্রি ক্যুরিয়র সংস্থার পোর্টালে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ।
এফআইআরে নাম রয়েছে ডিটিডিসি-র চ্যানেল ম্যানেজমেন্ট এগজিকিউটিভ অর্ঘ্য দাস এবং তারাতলা গোপালপুর শাখার ম্যানেজার শুভম বক্সীর। পাশাপাশি, অভিযোগের তদন্তে সিএবির এক শ্রেণির কর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তের প্রয়োজনে মঙ্গলবার সকালে সিএবির দফতরেও তদন্তকারীদের একটি দল যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচটি অনুমোদিত ক্লাবের কাছে নির্বাচনী নথি পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি। নথিভুক্ত ঠিকানায় সেগুলি না পাঠিয়ে অন্য ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আরও দাবি, পাঁচটি পৃথক বুকিং রসিদের পরিবর্তে একটি রসিদ তৈরি করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কনসাইনমেন্ট নম্বরগুলির কোনও বৈধ ট্র্যাকিং রেকর্ডও ছিল না বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এফআইআরে আরও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অভিযুক্তেরা ষড়যন্ত্র করে কিছু ভুয়ো কনসাইনমেন্ট নম্বর তৈরি করেছিলেন এবং সেগুলিকে আসল হিসাবে ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রাপকের কাছে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট কিছু সদস্যকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং অন্যদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যেই এমনটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নথি জালিয়াতি, প্রতারণা, জাল নথিকে আসল হিসেবে ব্যবহার, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগ রয়েছে। বেশ কয়েকটি ধারাই জামিন অযোগ্য বলে জানা গিয়েছে।
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে সিএবির একাংশ। সিএবির এক কর্তার দাবি, অভিযোগটি মিথ্যা এবং সমস্ত ক্লাবই নিয়ম মেনে এজিএম সংক্রান্ত ফর্ম জমা দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলির নথি নিয়ম মেনেই পাঠানো হয়েছিল।
অভিযুক্ত ক্যুরিয়র সংস্থার কর্মী অর্ঘ্য দাসও জানিয়েছেন, তাঁরা সিএবির নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেছেন। কোথাও ভুল হয়ে থাকলে সেটি কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত ধারণা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী গৌতম দে-র দাবি, ২৪ সেপ্টেম্বরের সিএবি বার্ষিক সাধারণ সভায় সচিব, যুগ্ম সচিব এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচন-সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। তাই নির্বাচনী নথি পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তার প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এর মধ্যেই নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। কয়েকটি জেলার জেলাশাসক সত্তরোর্ধ্ব বয়স এবং দীর্ঘদিন ধরে পদে থাকা প্রতিনিধিদের এজিএমে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিঠি দিয়েছেন। ফলে পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি সিএবি নির্বাচন নিয়েও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এখন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই নজর সকলের।