নয়াদিল্লি: নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। বিমান ছাড়ার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এক বার নয়, বার বার বদলাচ্ছে উড়ানের সময়। অপেক্ষার প্রহর যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে ক্ষোভ। শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরের ভিতরেই বিক্ষোভে সামিল হলেন ২০০-র বেশি যাত্রী। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্পাইসজেটের দু’টি দুবাইগামী উড়ান ঘিরে মঙ্গলবার এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়। বার বার উড়ান পিছিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদেই যাত্রীরা বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, বিমানবন্দরে অপেক্ষারত যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, শুধু এক বার দেরি নয়, বার বার উড়ানের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে কখন তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন, তা নিয়েই তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
এক বার নয়, বার বার বদল সময়
দুবাই যাওয়ার জন্য দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন বহু যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে উড়ান ধরার প্রস্তুতিও ছিল তাঁদের। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও বিমান ছাড়েনি। তার পর শুরু হয় অপেক্ষা। অভিযোগ, উড়ানের সময় একাধিক বার পিছিয়ে দেওয়া হয়। বিমান সংস্থার তরফে পরিবর্তিত সময় জানানো হলেও সেই সময়েও উড়ান না ছাড়ায় যাত্রীদের ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিক্ষোভের আকার নেয়।
বিমানবন্দরেই ক্ষোভ উগরে যাত্রীদের
দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের একাংশ বিমানবন্দরে প্রকাশ্যেই নিজেদের ক্ষোভের কথা জানাতে শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্যের মূল প্রশ্ন ছিল—ঠিক কখন উড়বে বিমান? অনেক যাত্রীর কাছেই উড়ানের দেরি মানে শুধু কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা নয়। আন্তর্জাতিক উড়ান হওয়ায় এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দুবাইয়ে পৌঁছে পরবর্তী যাতায়াত, কাজ, হোটেল বুকিং কিংবা অন্য সংযোগকারী উড়ানের সময়সূচি। ফলে বার বার সময় বদলে যাওয়ায় তাঁদের পরিকল্পনাও ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
দুবাইগামী দু’টি উড়ান ঘিরেই সমস্যা
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লি থেকে দুবাইগামী স্পাইসজেটের দু’টি উড়ান বার বার পিছিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই যাত্রীদের এই বিক্ষোভ। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন যাত্রী সমস্যায় পড়েন। এই ঘটনা ফের সামনে এনে দিল বিমান সংস্থার সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রী পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন। উড়ান সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হলে যাত্রীদের দ্রুত এবং স্পষ্ট ভাবে তথ্য জানানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নও উঠছে।
তথ্যের অনিশ্চয়তাই ক্ষোভের বড় কারণ
উড়ান দেরি হওয়া বিমান চলাচলে অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। আবহাওয়া, বিমান সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমস্যা, বিমানবন্দরের চাপ, ক্রু সংক্রান্ত সমস্যা বা অপারেশনাল কারণ—বিভিন্ন কারণে উড়ান পিছোতে পারে। কিন্তু যাত্রীদের কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তার স্পষ্ট তথ্য না পাওয়া। স্পাইসজেটের এই ঘটনায় বার বার সময় পরিবর্তনের অভিযোগ সেই অসন্তোষকেই আরও বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হওয়ায় যাত্রীদের একাংশ শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদের পথ বেছে নেন।
বিমান পরিষেবা নিয়ে ফের প্রশ্ন
দেশে বিমানযাত্রীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সেই সঙ্গে বিমানবন্দরগুলিতেও বাড়ছে যাত্রী চাপ। ফলে কোনও উড়ান দীর্ঘ সময় পিছিয়ে গেলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বিমানবন্দরের গেট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরবর্তী উড়ানের সময়সূচির উপরেও তার প্রভাব পড়তে পারে। দিল্লির মতো ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ধরনের পরিস্থিতি আরও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে ভিসা, হোটেল, সংযোগকারী উড়ান এবং অন্যান্য বুকিংয়ের বিষয়।
যাত্রী পরিষেবাই এখন বড় প্রশ্ন
দিল্লি বিমানবন্দরের এই বিক্ষোভের ঘটনায় আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কেন একই উড়ানের সময় বার বার বদলাতে হল এবং যাত্রীদের কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে—সে বিষয়ে কতটা স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছিল? উড়ান দেরির কারণ জানা গেলে যাত্রীরা অন্তত নিজেদের পরবর্তী পরিকল্পনা সেই অনুযায়ী বদলাতে পারেন। কিন্তু বার বার নতুন সময় দিয়ে সেই সময়েও বিমান না ছাড়লে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। স্পাইসজেটের দু’টি দুবাইগামী উড়ান ঘিরে ২০০-র বেশি যাত্রীর এই বিক্ষোভ তাই শুধু একটি উড়ান দেরির ঘটনা নয়। আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সেই সঙ্গে সময়ানুবর্তিতা ও যাত্রী পরিষেবার মানও কি একই গতিতে বাড়ছে? দিল্লির বিমানবন্দরের ঘটনাই ফের তুলে দিল সেই প্রশ্ন।