নিউজ ডেস্ক: থাইল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? তাহলে বিমানে ওঠার আগে নতুন নিয়মগুলি জেনে নেওয়া জরুরি। ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য থাইল্যান্ডে প্রবেশের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কার্যকর হয়েছে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর, ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য পর্যটনের ক্ষেত্রে এখনও ভিসা-ফ্রি প্রবেশের সুবিধা রয়েছে। তবে বদলেছে সেখানে থাকার সর্বোচ্চ সময়সীমা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারতীয় পর্যটকরা ট্যুরিস্ট হিসেবে ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০ দিন থাইল্যান্ডে থাকতে পারবেন। এর আগে ভিসা ছাড়া থাকার অনুমতি ছিল ৬০ দিন পর্যন্ত। অর্থাৎ ভিসা-ফ্রি সুবিধা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি, বরং থাকার মেয়াদ অর্ধেক করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য থাইল্যান্ডে থাকার পরিকল্পনা থাকলে ভ্রমণের আগে ভিসার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
থাইল্যান্ডে প্রবেশের সময় পাসপোর্ট নিয়েও বিশেষ শর্ত রয়েছে। যাত্রীর পাসপোর্টের মেয়াদ প্রবেশের তারিখ থেকে অন্তত ছয় মাস থাকতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ ছয় মাসের কাছাকাছি চলে এলে ভ্রমণের আগে সেটি নবীকরণ করে নেওয়াই নিরাপদ।
শুধু পাসপোর্ট থাকলেই অবশ্য নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না। ভিসা-ফ্রি এন্ট্রির ক্ষেত্রে যাত্রীর কাছে কনফার্মড রিটার্ন টিকিট অথবা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট থাকতে পারে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ চাইলে সেই টিকিটের প্রমাণ দেখতে পারে। তাই শুধু ওয়ান-ওয়ে টিকিট নিয়ে গিয়ে পরে ফেরার টিকিট কাটার পরিকল্পনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
থাকার ব্যবস্থার প্রমাণও হাতের কাছে রাখা ভালো। হোটেল বা অন্য কোনও থাকার জায়গার বুকিং আগে থেকে নিশ্চিত করে তার নথি সঙ্গে রাখা উচিত। পাশাপাশি কোথায় থাকবেন এবং কীভাবে ভ্রমণ করবেন, তার একটি প্রাথমিক ট্রাভেল প্ল্যান বা আইটিনারিও থাকলে ইমিগ্রেশনের সময় সুবিধা হতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ। ভিসা ছাড়া থাইল্যান্ডে প্রবেশের ক্ষেত্রে পর্যটকের কাছে অন্তত ২০ হাজার থাই বাত নগদ থাকার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ আনুমানিক ৫৮ হাজার টাকার কাছাকাছি। ফলে শুধুমাত্র ক্রেডিট কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের উপর নির্ভর না করে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সঙ্গে রাখা জরুরি।
এর পাশাপাশি থাইল্যান্ডে প্রবেশের আগে Thailand Digital Arrival Card বা TDAC পূরণ করতে হবে। ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে এই ফর্ম পূরণ করার সুযোগ থাকে। তাই বিমান ধরার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফর্মটি সম্পূর্ণ করে রাখা ভালো।
যাঁরা থাইল্যান্ডকে শুধুমাত্র ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। পরবর্তী যে দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, সেই দেশের প্রয়োজনীয় ভিসা, পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথি সঙ্গে থাকা বাধ্যতামূলক হতে পারে। থাইল্যান্ডে ভিসা-ফ্রি প্রবেশের সুবিধা থাকলেও তা পরবর্তী গন্তব্যের ভিসা সংক্রান্ত নিয়মকে কোনওভাবেই বদলে দেয় না।
তাই ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থাইল্যান্ড ভ্রমণের আগে শুধু ‘ভিসা লাগবে না’ এই তথ্য জানলেই হবে না। ছয় মাসের বৈধতা থাকা পাসপোর্ট, রিটার্ন বা অনওয়ার্ড টিকিট, থাকার প্রমাণ, প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ এবং TDAC সবকিছু আগে থেকে প্রস্তুত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।