অন্ধ্রপ্রদেশ, নিউজ ডেস্ক: উৎসবের দিন। চারিদিকে মানুষের ব্যস্ততা, ভোজনের সুর, কথাবার্তা আর আনন্দের পরিবেশ। কিন্তু সেই কোলাহলের মধ্যে এমন একটি ঘটনা ঘটল, যা কিছুক্ষণের জন্য সকলের নজর ঘুরিয়ে দিল অন্যদিকে। ছোট্ট একটি প্রাণীকে ঘিরে শুরু হল আলোচনা। প্রাণীটি একবার চলে যাচ্ছে আবার ফিরে আসছে একই জায়গায়। সে কোথা থেকে এলো? কেনই বা এমন করছে, তা নিয়ে শুরু হল কৌতুহল।
দেখুন: https://x.com/KP_Aashish/status/2100111618697052546
অন্ধ্রপ্রদেশের সিলেরুর একটি আদিবাসী বালিকা বিদ্যালয়ে গনেশ চতুর্থীর আয়োজন ঘিরে এমনই অদ্ভুত দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের বিনায়কের বিগ্রহের কাছে একটি ছোট্ট ইঁদুরকে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করতে দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে বলা হয়েছে ভোজনের সুর এবং মানুষের কোলাহলের সত্বেও ইঁদুরটি বারবার গণেশের বিগ্রহের কাছে ফিরে আসছিল। কিছুক্ষণ সেখানে থাকার পর সরে গেলেও ফের তাকে একই জায়গায় দেখা যায়। ঘটনাটি নজরে আসতেই স্বাভাবিকভাবে কৌতুহল তৈরি হয় উপস্থিতদের মধ্যে।
গণেশের সঙ্গে ইঁদুরের সম্পর্ক হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও পুরাণে বিশেষভাবে পরিচিত। 'মূষিক' বা ইঁদুরকে সাধারণত গণেশের বাহন হিসেবে দেখানো হয় হিন্দু পুরাণে। ফলে, গনেশ চতুর্থীর উৎসবের সময় গণেশের মূর্তির কাছে কোনও ইঁদুরের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের মধ্যে এক আলাদা আগ্রহ ও অনুভূতি তৈরি করতে পারে। সিলেরুর ওই বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ছোট্ট প্রাণীটির গতিবিধি দেখতে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে কৌতুহল তৈরি হয়। উৎসবের ব্যস্ত পরিবেশে সাধারণত ছোট প্রাণী মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। কিন্তু, এক্ষেত্রে ইঁদুরটিকে বারবার একই জায়গায় ফিরে আসতে দেখা যাওয়াই দৃশ্যটি বিশেষ নজর কেড়েছে।
সিলেরুর বিদ্যালয়ের এই ঘটনাতেও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে উৎসবের মধ্যে এই অপ্রত্যাশিত 'অতিথি' বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে বলে মনে করা হয়েছে। তবে, ইঁদুরটি কেন বারবার বিনায়কের বিগ্রহের কাছে আসছিল তার কোনও নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। প্রাণীটির আচরণকে কেন্দ্র করে কোনও অলৌকিক ব্যাখ্যাও নিশ্চিত নয়। গণেশ চতুর্থীর ভক্তিময় পরিবেশে ছোট্ট প্রাণীটির এমন আনাগোনা মুহূর্তেই নজর কেড়েছে সবার। ভোজনের সুর, উৎসবের ব্যস্ততা আর তার মাঝেই গণেশের কাছে আসা সেই ইঁদুর, সোশ্যাল মিডিয়ায় কৌতূহলের অন্যতম কারণ।