নিউজ ডেস্ক: বাংলার ফের জয়জয়কার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে। নেটপ্যাক সম্মান পেলেন পুরুলিয়ার মেয়ে অনুপর্ণা রায় 'লাভার্স ইন দ্য ব্লু নাইট' ছবির জন্য । ফের জয়জয়কার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে (Venice Film Festival 2026)। পৃথিবীর স্টেজে আরও একবার স্বীকৃত হলেন অনুপর্ণা রায়। সেরা এশীয় ছবির সম্মান 'নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড' (NETPAC Award) তাঁর পরিচালিত দ্বিতীয় ফিচার ফিল্ম 'লাভার্স ইন দ্য ব্লু নাইট' (Lovers In The Blue Night)। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে টানা দু'বছর পুরস্কৃত হলেন এই প্রতিভাধর চলচ্চিত্র পরিচালক।
সীমান্ত জীবন আর মুম্বইয়ের পটভূমিতে তৈরি এই ছবি। যা প্রেম, বৈবাহিক জীবন ,কামনা, ও মাটির টানের কথা — মূলত মানুষের জীবনের জটিল ওঠাপড়ার গল্প যা চারটি পিলারের উপর দাঁড়িয়ে। এখানে প্রীতম পিলানিয়া অভিনয় করেছেন চার করিমের চরিত্রে। নীলিমা শর্মা অভিনয় করেছে তাঁর স্ত্রী আমিনার ভূমিকায়। গল্পের রাস্তা ঘুরে যায়, যখন এক ছিঁচকে অপরাধী সুক্কার (ভূষণ শিম্পি) সঙ্গে আলাপ হয় করিমের। অন্যদিকে, তাঁর নতুন সহকর্মী ওমরামের (যতীন সারিন) প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন আমিনা।
সেলুলয়েডে নিপুণভাবে বুনেছেন পরিচালক (Anuparna Roy) মানবমনের এই জটিল মনস্তত্ত্বকেই। কিছুদিনের মধ্যেই এই ছবিটির এশীয়ান প্রিমিয়ার হতে চলেছে বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। অনুপর্ণা নিজেই জানিয়েছেন স্বাধীন পরিচালকদের জন্য বুসানের এই মঞ্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে।
এক অশেষ লড়াইয়ের নিখাদ গল্প এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে পুরুলিয়ার মেয়ে অনুপর্ণার । মে মাসের ৯ তারিখ,১৯৯৪ তার জন্ম। তারপর পুরুলিয়া জেলার নারায়ণপুর গ্রামে বড় হয়ে ওঠা। বাবার নাম ব্রহ্মানন্দ রায়। কিংবদন্তি চিত্রপরিচালক ঋত্বিক ঘটক এই নামকরণ করেছিলেন স্বয়ং! রানিপুর কোলিয়ারি হাইস্কুল এবং নাপাড়া হাইস্কুলে পড়াশোনা। ব
র্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত কুলটি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক। মাস কমিউনিকেশন নিয়ে এরপর পড়াশোনা করেন তিনি। চলচ্চিত্র দুনিয়ায় আসার আগে দিল্লির একটি কল সেন্টার ও মুম্বইয়ের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবেও কাজ করেছেন অনুপর্ণা এবং ২০২৩ সালে 'রান টু দ্য রিভার' ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ অবশেষে।
গত বছর ছিল ভেনিসের ৮২তম আসর, নিজের প্রথম ফিচার ফিল্ম 'সংস অফ ফরগোটেন ট্রিজ'-এনে দিয়েছিল ওরিজোন্তি বা হরাইজনস বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার । আর ঠিক তার এক বছরের মধ্যেই আবার তাঁর দ্বিতীয় ছবির এই আন্তর্জাতিক সম্মান। তাই এই স্বীকৃতি যেকোনো স্বাধীন ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।