কাকদ্বীপ, নিউজ ডেস্ক: সেটা ছিল ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের রাত। কাকদ্বীপের বুধাখালিতে নিজেদের বাড়িতেই আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছিল সিপিএম কর্মী দেবপ্রসাদ দাস এবং তাঁর স্ত্রী ঊষারানি দাসের। ৮ বছর পর নতুন মোড় সেই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায়। উক্ত মামলায় ধৃত ১০ জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি চার্জশিট পেশ করেছে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল। উল্লেখ্য, কাকদ্বীপ থানার ৮৭/১৮ নম্বর মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৩৬, ৩০২, ২০১ এবং ৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত ঝুলে থাকার পর চার্জশিট পেশ হওয়ায় নতুন করে আরেকবার আলোচনায় এসেছে নৃশংস ঘটনাটি।
ঘটনার রাতে দম্পতির ছেলে থানায় গিয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বলে উঠে এসেছে তদন্তে। তবে পরবর্তী সময়ে তৎকালীন পুলিশের মূল তদন্তে ওই অভিযোগে নাম থাকা কয়েক জনের নাম বাদ রেখে মাত্র ৯ জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। মামলাটিতে তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে আইপিএস মুরলীধর শর্মার নেতৃত্বে গঠন করা হয় সিট। নতুন করে তদন্ত শুরু করেন তদন্তকারীরা। তার পরেই খতিয়ে দেখা হয় প্রথম অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা।
গত ২৩ জুন রাতে কাকদ্বীপ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযোগে নাম থাকা ১০ জনকে আটক করে সিট এবং সুন্দরবন পুলিশ জেলার যৌথ বাহিনী। অভিযুক্তরা যথাক্রমে অশোক মণ্ডল, চন্দন গিরি, মেঘনাথ ডাকুয়া, মাধব কন্দর, নিকুঞ্জ নস্কর, শিবপ্রসাদ মণ্ডল, অমিত মণ্ডল, গোকুল জানা, নারায়ণচন্দ্র পতি এবং শেখ মনিরুল। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁদের বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে দাবি তদন্তকারীদের। পরের দিন অর্থাৎ ২৪ জুন ওই ১০ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে স্থানীয় কয়েক জন তৃণমূল নেতা-কর্মীও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে বিচারাধীন।
প্রায় ৮ বছর আগের সেই ঘটনায় এ বার চার্জশিট পেশ হওয়ায় তদন্তের পরবর্তী ধাপ শুরু হল। সিটের তরফে আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে ধৃত ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে ঘটে যাওয়া এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনা সেই সময় দক্ষিণ ২৪ পরগণা তো বটেই, রাজ্য রাজনীতিতেও তীব্র আলোড়ন ফেলেছিল। দীর্ঘ সময় পরে মূল অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের গ্রেফতার এবং তার পর দ্রুত চার্জশিট পেশ হওয়ায় মামলাটি নতুন করে গতি পেল। এখন আদালতে পরবর্তী শুনানি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।