কলকাতা, নিউজ ডেস্ক : রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ঘাসফুল ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছিল অন্তর্দ্বন্দ্ব। এক নাম, এক প্রতীক তবে দু-জনের দাবি তারাই আসল। নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর লড়াইয়ে মরিয়া দুই তৃণমূল শিবির। রাজনৈতিক এই টানাপোড়নের মাঝেই রয়েছে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন। দোড়গোড়ায় রয়েছে মনোনয়নের দিন। এরই মাঝে তৃণমূলের প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটলো নির্বাচন কমিশন।
ঘাসফুল বা জোড়াফুল কোনও চিহ্ন নিয়েই ভোটের ময়দানে লড়াই করতে পারবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কিংবা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। এমনকি ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করে ভোটে লড়তে পারবেন না। ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটিও ব্যবহার করা যাবে না। কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে দুই শিবিরকেই বিকল্প নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে নামতে হবে।
শুধু নাম নয়, প্রতীকেও থাকছে বড় পরিবর্তন। দুই গোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে থাকা ‘ফ্রি সিম্বল’ বা অবমুক্ত প্রতীকের তালিকা থেকে আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে। প্রত্যেক পক্ষকে পছন্দের তিনটি প্রতীকের নাম জানাতে হবে কমিশনকে। সেই তালিকা থেকে একটি প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১১টার মধ্যে দুই গোষ্ঠীকে নিজেদের পছন্দের তিনটি নাম এবং তিনটি করে প্রতীকের তালিকা জমা দিতে হবে।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর্ব। ঠিক তার আগেই তৃণমূলের প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত, যা কার্যত নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল। তারপরেই কালীঘাটপন্থী তৃনমূলের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ হয়ে যেতে পারে। এমনটা হলে দুই তৃণমূলকেই বিকল্প প্রতীক নিয়ে ভোটে নামতে হতে পারে এমন জল্পনাও ছড়িয়েছিল। কিন্তু তেমন কোনও সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।
শুধু তাই নয় মমতা শিবিরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর ফের কমিশনের ডাকে বৈঠকে যেতে হবে তাঁদের। অর্থাৎ প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি বলেই তাঁদের বক্তব্য ছিল তাদের। কিন্তু তার আগেই নির্বাচন কমিশনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে বড় ধাক্কা। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম সরাসরি ব্যবহার করতে পারবে না দুই শিবিরই। একইসঙ্গে ঘাসের উপর জোড়াফুল তৃণমূলের সংরক্ষিত প্রতীকও ব্যবহার করা যাবে না কোনও পক্ষ। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ব্যালটে কার নামে থাকবে তৃণমূলের পরিচয়? কার হাতে থাকবে ঘাসের উপর জোড়াফুল সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্যে।




