নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই কালীপুজো ও ছটের তোড়জোর শুরু হয়ে গিয়েছে জলপাইগুড়িতে। আর উৎসবের সেই প্রস্তুতিতে কোনওরকম ফাঁক রাখতে নারাজ প্রশাসন। কলকাতার চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ভিড় সামলানো ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ জারি করল রাজ্য সরকার। পুজোমণ্ডপের লম্বা লাইন থেকে শুরু করে বিসর্জনের শোভাযাত্রা সর্বত্র নজরদারি চালাবে ড্রোন। সঙ্গে থাকছে শব্দদানব রুখতে ডিজের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং মহিলাদের জন্য বায়ো টয়লেটের বন্দোবস্ত।
বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দফতরে এই সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের বণ্টন করা দায়িত্ব অনুযায়ী জেলায় পুজোর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। এছাড়া বৈঠকে ছিলেন জেলাশাসক অদিতি চৌধুরী, পুলিশ সুপার সুজাতা কুমারী বীণাপানি, দমকল ও বিদ্যুৎ বণ্টন দফতরের আধিকারিক, স্থানীয় বিধায়ক এবং জেলার বড় কালীপুজো ও ছটপুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধিরা। বৈঠকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দুর্গাপুজোর মতোই কালীপুজোতেও ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য আগে একাধিক দিন সময় পাওয়া গেলেও এবার আর তা হচ্ছে না,আগামী ১৩ নভেম্বর অর্থাৎ এক দিনেই সমস্ত বিসর্জন পর্ব শেষ করতে হবে।
ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী জানান,কমবয়সিদের দিয়ে যেনতেন প্রকারে ভিড় সামলানো যাবে না। মণ্ডপ পরিচালনার পুরো রাশ রাখতে হবে অভিজ্ঞ ক্লাব কর্মকর্তাদের হাতেই।
চোরবাগানের ঘটনায় মাইকিং নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় এবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ক্লাবের নির্দিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ যত্রতত্র মাইক হাতে ঘোষণা করতে পারবেন না।
বড় বাজেটের মণ্ডপগুলিতে অতিরিক্ত ‘এক্সিট গেট’ বা জরুরি নির্গমন পথ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মণ্ডপের সমস্ত কোণে সিসিটিভির নজর পৌঁছয় না বলেই ভিড়ের ওপর উড়বে ড্রোন। একই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে ছটপুজোর নদীঘাটগুলিতেও।
দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে, বিশেষত মহিলাদের জন্য মণ্ডপ চত্বরে পর্যাপ্ত বায়ো টয়লেট বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি থাকছে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকও।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে পুজো কমিটিগুলি সাধুবাদ জানালেও, বৈঠক শেষে সুর চড়িয়েছেন সেখানে উপস্থিত বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপী গোস্বামী। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে দলীয় প্রভাব আর লুঠের টাকায় নিয়ম অমান্য করে পুজো করার যে রেওয়াজ ছিল, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জমানায় তা আর বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন এখন নিয়ম মেনেই চলবে।




