মালদহ: ছট পুজোকে কেন্দ্র করে এবার বড়সড় নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। মালদহে ছট পুজোর আয়োজন ঘিরে নিরাপত্তা পরিদর্শনে গিয়ে তাঁর বিস্ফোরক দাবি, চোরবাগানের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটানোর ষড়যন্ত্র হতে পারে। এই আশঙ্কাকে সামনে রেখেই প্রশাসনকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর অভিযোগ, কিছু অসাধু শক্তি পরিকল্পিতভাবে অন্তর্ঘাত ঘটিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে।
মালদহ শহরের মহানন্দা নদীর তীরে মিশন ঘাটে প্রতি বছরই ছট পুজো উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এবারও সেখানে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর জমায়েত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুজোকে কেন্দ্র করে বসে একাধিক মেলা। ফলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সব দিকেই বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা বিধানসভার চিফ হুইপ অম্লান ভাদুড়িকে সঙ্গে নিয়ে মিশন ঘাট পরিদর্শন করেন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। নদীর ঘাটের পাশাপাশি নৌকায় চড়েও নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। পুণ্যার্থীদের যাতায়াত, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য বিপদের জায়গাগুলি নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনের পর মন্ত্রী বলেন, কিছু শক্তি অন্তর্ঘাত ও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করতে পারে। তবে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। চোরবাগানের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, যাঁদের হাত থেকে ক্ষমতা চলে গিয়েছে, তাঁদের কেউ কেউ সরকারের বদনাম করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।
তাঁর কথায়, চোরবাগানে যে ঘটনা ঘটেছে, তার পিছনেও ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা রয়েছে। ছট পুজোর সময়ও কেউ একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে, পুজোর সময় আতঙ্ক বা গুজব যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও বিশেষ সতর্ক প্রশাসন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, ভিড়ের মধ্যে মাইকিংকে কেন্দ্র করে যাতে অযথা দৌড়াদৌড়ি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে।
তবে ঠিক কী ধরনের নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে, কারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগের সত্যতা যাচাইও এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। আপাতত ছট পুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তার দিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা প্রশাসন।




