ধূপগুড়ি: নিজের জমিতে ধান কাটছিলেন। চারপাশে তখন নিস্তব্ধ পরিবেশ। আচমকাই পিছন দিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল একটি চিতাবাঘ! মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন প্রায় ৬০ বছরের এক বৃদ্ধা। কিন্তু বিপদের মুখে ঘাবড়ে না গিয়ে হাতে থাকা কাঁচি দিয়েই চিতাবাঘকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই ছোট্ট বুদ্ধিতেই প্রাণে বাঁচলেন বৃদ্ধা। জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে এই ঘটনায় নতুন করে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।
ঘটনাটি ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড়আলতা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গারঘুটা এলাকার। আহত মহিলার নাম বাসন্তী রায়। তিনি মরাঘাট রেঞ্জের খট্টিমারি জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার নিজের জমিতে একাই ধান কাটছিলেন বাসন্তীদেবী। সেই সময় আচমকাই পিছন দিক থেকে একটি চিতাবাঘ তাঁর উপর হামলা চালায়। চিতাবাঘের থাবার আঘাতে মাটিতে পড়ে যান তিনি। আচমকা এমন আক্রমণে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বৃদ্ধা। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা শুরু করেন।
তাঁর হাতে তখন ছিল ধান কাটার কাঁচি। সেটি দিয়েই চিতাবাঘকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাসন্তীদেবীকে ছেড়ে জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায় চিতাবাঘটি। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিতাবাঘের থাবা ও কামড়ে তাঁর শরীরের তিনটি জায়গায় আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে বাড়িতে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মরাঘাট রেঞ্জের সোনাখালি বিট অফিসে খবর দেন। বন দফতরের কর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে আহত মহিলার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
উল্লেখ্য, ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় আগেও একাধিকবার চিতাবাঘের হামলার ঘটনা ঘটেছে। জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এই ঘটনার পর গারঘুটা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জঙ্গল সংলগ্ন জমিতে ধান কাটতে যেতে ভয় পাচ্ছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।
এলাকায় বন দফতরের নজরদারি বাড়ানো এবং কৃষকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।




