বনগাঁ: নাগরিকত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার কি এবার অবসান হতে চলেছে? CAA বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদনকারীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত শুনানি শেষ করে যোগ্য আবেদনকারীদের হাতে CAA সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জানুয়ারি মাসে CAA সার্টিফিকেটপ্রাপকদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার বনগাঁয় একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মতুয়া সমাজের উদ্দেশে এই বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, নাগরিকত্বের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে CAA কার্যকর করার ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণেই অনেকের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সরকার আপনাদের সরকার। ৭০টি বিধানসভা রয়েছে, যেখানে মতুয়ারা আমাদের নির্বাচিত করেছেন। নিশ্চিন্তে থাকুন।” তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শিলিগুড়িতে টানা তিন দিন বৈঠক করেছেন। গুজরাত ও রাজস্থানের মতো রাজ্যে CAA সংক্রান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এরপরই নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের উদ্দেশে সময়সীমা বেঁধে দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শুনানি শেষ করে সকলকে CAA সার্টিফিকেট প্রদান করব।” পাশাপাশি, যোগ্য আবেদনকারীরা যাতে তফসিলি জাতি বা SC শংসাপত্রও পান, সেই বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন তিনি।
শুধু নাগরিকত্ব নয়, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা যাতে মতুয়া সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছয়, সেই বিষয়েও বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, CAA সার্টিফিকেট পাওয়ার পর ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা যাতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেকে যাতে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের স্বাস্থ্য কার্ড পান, সেদিকেও নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এই কাজের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে একজন বিশেষ আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, কোনও যোগ্য ব্যক্তি যেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।
এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শুনানি শেষ করে কতজন আবেদনকারীর হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়া সম্ভব হয়। মতুয়া সমাজের বহু মানুষের কাছে এই ঘোষণা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।




