কলকাতা: কালীপুজোয় মায়ের পায়ে জবা না দিলে পুজো যেন অসম্পূর্ণ! শ্যামাসাধনায় লাল জবার গুরুত্বই আলাদা। তাই কালীপুজোর আগে ফুলের বাজারে সবচেয়ে বেশি নজর থাকে এই ফুলের দিকেই। এ বার অবশ্য জবার জোগান নিয়ে আপাতত স্বস্তিতে ফুল ব্যবসায়ীরা। হিমঘরে মজুত রয়েছে প্রায় দেড় কোটি জবার কুঁড়ি। কিন্তু তাতে যে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পুজোর দিন যত এগিয়ে আসবে, চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জবার দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি বাসন্তী গাঁদার মালার চাহিদাও বেশ চড়া।
কালীপুজোর দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জবার বিপুল চাহিদা থাকে। এক দিনে সেই চাহিদা মেটানো সম্ভব নয় বলেই আগে থেকে ফুল তুলে হিমঘরে সংরক্ষণ করেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। জবার কুঁড়ি তুলে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা হয়, যাতে পুজোর সময় সেগুলি বাজারে সরবরাহ করা যায়। এ বারও সেই প্রস্তুতি রয়েছে। হিমঘরে দেড় কোটি কুঁড়ি মজুত থাকায় বাজারে জবার জোগান নিয়ে বড়সড় ঘাটতির আশঙ্কা আপাতত নেই।
তবে ফুলের বাজারে শুধু জবার হিসাব নয়, চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ। কালীপুজোর আগের দিন এবং পুজোর দিন সকালে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ১০৮ জবার মালা এবং ১০০৮ জবার মালার চাহিদা থাকে বিপুল। ফলে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও পাইকারি বাজারে দাম বাড়তে পারে। খুচরো বাজারে সেই দাম আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা।
বাসন্তী গাঁদার মালায় বাড়তি চাহিদা
জবার পাশাপাশি এ বার আলোচনায় বাসন্তী গাঁদা। পুজোর উপাচার থেকে মণ্ডপসজ্জা—বিভিন্ন কাজে এই ফুলের ব্যবহার রয়েছে। বাসন্তী রঙের গাঁদার মালার চাহিদা থাকায় বাজারে তার দরও চড়তে পারে। বিশেষ করে বড় আকারের মালা কিনতে গেলে ক্রেতাদের বেশি টাকা গুনতে হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
ফুলের বাজারে কালীপুজো মানেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দামের ওঠানামা। সকালে যে দামে ফুল বিক্রি হয়, চাহিদা বাড়লে দুপুর বা সন্ধ্যার দিকে সেই দাম বদলে যেতে পারে। পাইকারি বাজার থেকে খুচরো বিক্রেতাদের হাত ঘুরে ফুল যখন পাড়ার বাজারে পৌঁছয়, তখন মালা গাঁথার মজুরি ও পরিবহণ খরচও যুক্ত হয়। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে টান পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এক দিনের পুজো, প্রস্তুতি অবশ্য বহু দিনের
কালীপুজোর জন্য বিপুল পরিমাণ জবা জোগাড় করতে ফুলচাষিদের বেশ কয়েক দিন আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে হয়। রাজ্যের হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া এবং দুই ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় ফুলের চাষ হয়। সেখান থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে ফুল আসে। কুঁড়ি তুলে হিমঘরে রাখার ফলে এক দিনে বিপুল চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
তবে মজুতের পরিমাণ বেশি থাকলেই যে বাজারে দাম কম থাকবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কালীপুজোর মতো নির্দিষ্ট দিনে জবার চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে শেষ মুহূর্তে বাজারে কী পরিমাণ ফুল ছাড়া হচ্ছে, তার উপরেই অনেকটা নির্ভর করবে দাম। আপাতত দেড় কোটি জবার কুঁড়ি নিয়ে স্বস্তি থাকলেও পুজোর বাজারে শেষ হাসি হাসবেন ক্রেতা, না ফুল ব্যবসায়ীরা—সেদিকেই নজর।




