নিউজ ডেস্ক: পালাবদলের পর টলিপাড়ায় প্রথম নির্বাচন। শনিবার, ৩১ অক্টোবর থেকে টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। রবিবারও চলছে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া। বিভিন্ন গিল্ডের সভাপতি পদে নতুন মুখ বেছে নিতেই এই আয়োজন। আর সেই নির্বাচন ঘিরেই স্টুডিওপাড়ায় বাড়তি তৎপরতা। ভোটগ্রহণপর্ব সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আসেন মিঠুন চক্রবর্তী এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।
টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর বাইরে বসে চায়ে চুমুক দিতে দিতে গোটা বিষয়টা দেখছেন মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, 'শিল্পীদের কাজের পরিবেশ বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনওভাবেই শুটিং বন্ধ করে দেওয়া বা কাউকে কাজ করতে বাধা দেওয়ার সংস্কৃতি চলতে পারে না। গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়া উচিত বলে মত তাঁর।' একইসঙ্গে তৃণমূলকে কড়া তোপ দেগে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, 'যদি তৃণমূলের কোনও অংশের কোনও ধরনের বদমাইশি আমি দেখি, তাহলে আমার থেকে খারাপ লোক আপনারা দেখেননি।'
অন্যদিকে, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। পাল্টা রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্য, 'শেষ কথা বলবেন ভোটাররাই। কোনও ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নয়, টেকনিশিয়ানদের রায়েই ঠিক হবে সংগঠনের আগামী দিনের নেতৃত্ব।'
নির্বাচন ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বরে রাখা হয়েছে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। অতীতে বহুবার টলিপাড়ার ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে ভয়ের পরিবেশ তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের দাদাগিরির দাপটে অস্থির অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল টলিপাড়ায়। কখনও অভিনেতা-পরিচালক ব্যান, শ্যুটিং বন্ধ, টেকনিশিয়ানদের কাজে না যাওয়া এইসব নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কম অশান্তি হয়নি। তবে এবারের ছবিটা একেবারে আলাদা। ভোটার, প্রার্থী, কমিশনার ছাড়া কাউকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।




