নিউজ ডেস্ক: শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালের মাঝে এমন বীভৎসতা ঘটে যেতে পারে, তা হয়তো দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি কেউ। হরিয়ানার পাঞ্চকুলা সেক্টর-২০ স্থিত ‘গভর্নমেন্ট সংস্কৃতি মডেল স্কুল’-এ সহপাঠী পর্যায়ের হিংসার শিকার হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছাল একরত্তি কিন্ডারগার্টেনের ছাত্রী। গত কয়েক দিন ধরে চণ্ডীগড় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-এর বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছিল মাত্র ছয় বছরের এই একরত্তি। অবশেষে প্রায় দীর্ঘ ৪০ ঘণ্টা পর তার জ্ঞান ফিরেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও খুদের শারীরিক এবং মানসিক ট্রমা এখনও কাটেনি।
ঘটনার সূত্রপাত স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠনের সময়েই। অভিযোগ, তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রের নৃশংস শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয় কেজি শ্রেণির ওই ছাত্রীটি। মারধরের মাত্রা এতটাই মারাত্মক ছিল যে সংজ্ঞাহীন হয়ে লুটিয়ে পড়ে সে। তড়িঘড়ি তাকে চণ্ডীগড়ের পিজিআই হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়। এই খবরে গোটা এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক বয়সের পড়ুয়াদের মধ্যে এহেন হিংস্র আচরণ এবং তার শিকার হওয়া একরত্তি শিশুকে নিয়ে শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে, চরম গাফিলতি ও সুরক্ষার অভাবের প্রশ্ন তুলে অভিভাবক মহলে ক্ষোভের আগুন জ্বলতে শুরু করতেই টনক নড়ে শিক্ষা প্রশাসনের। প্রশ্ন ওঠে, স্কুল চত্বরে যখন এত বড় কাণ্ড ঘটছে, তখন দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোথায় ছিলেন? কেনই বা দুটি ভিন্ন বয়সের শ্রেণির শিশুদের মধ্যে নজরদারি ছিল না? পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শনিবার গভীর রাতে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে হরিয়ানা শিক্ষা দফতর।
দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নির্দেশে ওই স্কুলের দুই শিক্ষিকাকে অবিলম্বে সাসপেন্ড বা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত ও নিগৃহীতা উভয় শ্রেণির দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধেই কর্তব্য অবহেলার দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া দুই শিক্ষিকা হলেন কেজি শ্রেণির দায়িত্বপ্রাপ্ত সিমরনজিৎ এবং তৃতীয় শ্রেণির ইন-চার্জ পূজা।
শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানান, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব ছিল, যেখানে সুস্পষ্ট ত্রুটি ধরা পড়েছে। গোটা ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিভাগীয় প্রক্রিয়া ছাড়াও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। একইসঙ্গে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির পরামর্শে অভিযুক্ত নাবালক ছাত্রের কাউন্সেলিংয়ের দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে দুই শিক্ষিকাকে সাসপেন্ড করেই কি শিক্ষাঙ্গনের এই অন্ধ গলির সমাধান সম্ভব? ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের বক্তব্য, স্কুলের ভেতর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ছোট বয়সেই পড়ুয়াদের আচরণের প্রতি শিক্ষকদের বাড়তি সংবেদনশীল হওয়া জরুরি ছিল।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেয়েটির জ্ঞান ফিরলেও আঘাত গভীর হওয়ায় এখনও বেশ কিছুদিন তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চালাতে হবে।




