নিউজ ডেস্ক : এক দুর্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নতুন করে উদ্বেগের মেঘ জমতে শুরু করেছে বঙ্গোপসাগরে। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। সমুদ্রের ওপর তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে ক্রমশ বাড়ছে আশঙ্কা। প্রশ্ন উঠছে, ফের কি দুর্যোগের মুখে পড়তে চলেছে পূর্ব ভারতের উপকূলবর্তী এলাকাগুলি? বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় এর কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে কৌতুহল।
আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি গভীর নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। নতুন এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে 'মরাসু'। ভারতই এই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে। তামিল ভাষার একটি শব্দ 'মরাসু'। যার অর্থ ঢোল বা ঢাক জাতীয় এক প্রকার প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র। অতীতের এই বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা বিপদের খবর পৌঁছে দেওয়া হতো সাধারণ মানুষজনের কাছে। সেই ঐতিহ্যবাহী শব্দ থেকেই নামকরণ করা হয়েছে ঘূর্ণিঝড়টির।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টি। উপকূলবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। পাশাপাশি, দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের আশেপাশে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে, উপকূলবর্তী এলাকায় আগাম সর্তকতা এবং পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোনও বড়সড় বিপদের আশঙ্কা দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা। ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়ার সম্ভাবনা কম বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। যদিও এর প্রভাবে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' এর প্রভাব কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে বিভিন্ন এলাকা। তারই মধ্যে 'মরাসু' এর আবির্ভাব নতুন করে আবহাওয়ার দিকে নজর ঘুরিয়েছে। তবে, ঝড়ের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন হতে পারে। তাই আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।




