নয়াদিল্লি: দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের মহাসমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত তুঙ্গে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং বিরোধী জোটকে এবার সরাসরি আক্রমণ করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তাঁর অভিযোগ, গণতন্ত্র রক্ষার নাম করে আসলে রাজনৈতিক প্রহসন করছে কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, উৎসবের মরশুমে এই মহাসমাবেশের কারণে দিল্লির ব্যবসায়ী, ছোট দোকানদার এবং ফুটপাতের হকারদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রবিবার INDIA জোটের মহাসমাবেশের দিনই ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার স্মৃতিও সামনে আনেন রেখা গুপ্তা। তাঁর বক্তব্য, যে দিনে হাজার হাজার শিখ মানুষের প্রাণ গিয়েছিল, সেই দিনেই কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন করা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। গণতন্ত্র এবং সংবিধানের কথা বলা কংগ্রেসের উচিত আগে ১৯৮৪ সালের ঘটনার দায় নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের যন্ত্রণা এবং দীর্ঘদিনের বিচারপ্রাপ্তির দাবিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন বিজেপির ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ পদযাত্রাতেও অংশ নেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস এবং INDIA জোট রাজনৈতিক স্বার্থে রাজধানীতে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। তাঁর দাবি, এই ধরনের কর্মসূচির ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে দীপাবলির আগে দিল্লির বাজারগুলিতে কেনাকাটার ভিড় বাড়ে। এই সময়ে যান চলাচলে বিধিনিষেধ, রাস্তা বন্ধ এবং নিরাপত্তার কারণে ব্যবসায়ীদের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ছোট দোকানদার ও ফুটপাতের বিক্রেতাদের জীবিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রেখা গুপ্তা।
উল্লেখ্য, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিও রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশের সময় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা, বিপুল জনসমাগম ও যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণের কারণে উৎসবের মরশুমে ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে। যদিও রাহুল গান্ধী পাল্টা সমাবেশে যোগ দিতে আসা মানুষদের দিল্লির স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা করার আবেদন জানিয়েছিলেন।
একদিকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রতিবাদ, অন্যদিকে ১৯৮৪ সালের হিংসা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থের প্রশ্ন তুলে বিজেপির পাল্টা কর্মসূচি সব মিলিয়ে রবিবার দিল্লির রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।




