নয়াদিল্লি: দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের মহাসমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। এবার কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে সরাসরি নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার স্মৃতিবিজড়িত ১ নভেম্বর তারিখে কেন বিরোধী জোট মহাসমাবেশের আয়োজন করল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অমিত শাহের অভিযোগ, এই দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন করে ১৯৮৪ সালের হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের পুরনো ক্ষতে নুনের ছিটে দিয়েছে কংগ্রেস।
রবিবার চণ্ডীগড়ে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ১ নভেম্বর তারিখটির সঙ্গে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের গভীর আবেগ ও বেদনা জড়িয়ে রয়েছে। ১৯৮৪ সালের হিংসার বার্ষিকীতে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কংগ্রেসের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল। শাহের দাবি, এই তারিখে সমাবেশ না করার পরামর্শও কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কর্মসূচি থেকে সরে আসেনি বিরোধী দল।
উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর দুই শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন। এর পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে দিল্লিতে, শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের উপর ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটে। কয়েক দিন ধরে চলা সেই হিংসায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বহু পরিবার হারিয়েছিল তাঁদের প্রিয়জনদের। সেই ঘটনার ক্ষত আজও বহন করে চলেছেন বেঁচে থাকা মানুষ এবং নিহতদের পরিবার।
প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও ১৯৮৪ সালের হিংসার বিচার ও দায়বদ্ধতার দাবি এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি। ফলে প্রতিবছর এই সময়টি শিখ সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
অন্যদিকে, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের ‘চলো দিল্লি’ মহাসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ বিরোধী জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা। ভোটাধিকার, ভোটার তালিকার সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
তবে বিরোধীদের এই কর্মসূচির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই সংঘাত আরও স্পষ্ট হল। ভোটাধিকার নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদের পাশাপাশি এবার ১৯৮৪ সালের হিংসার স্মৃতি ও সমাবেশের তারিখ নিয়েও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।




