নয়াদিল্লি: দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের মহাসমাবেশ থেকে ভোটাধিকার, নাগরিকত্ব এবং সমানাধিকারের প্রশ্নে সরব হলেন AISA-র সভাপতি নেহা বোরা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল দেশের মুসলিম, মহিলা, দলিত, আদিবাসী এবং দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রসঙ্গ। নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া এবং ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তুললেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা কি আদৌ নিশ্চিত হচ্ছে?
মহাসমাবেশের মঞ্চ থেকে নেহা বলেন, ভারতে প্রত্যেক মানুষের সমান মর্যাদা থাকা উচিত। আর সেই সমতার অন্যতম ভিত্তি হল একটি ভোট। তাঁর কথায়, প্রত্যেক নাগরিকের একটি ভোটই গণতন্ত্রে তাঁর সমান অধিকার ও গুরুত্ব নিশ্চিত করে। কিন্তু সেই ভোটাধিকার যখন কেড়ে নেওয়া হয়, তখন শুধু একজন নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকারই খর্ব হয় না, নিজের দেশেই তাঁকে বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা হচ্ছে। দেশের নাগরিক হয়েও কেন বারবার নিজেদের পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বক্তব্যে বিশেষভাবে মুসলিম, মহিলা, দলিত, আদিবাসী এবং দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন নেহা। তাঁর অভিযোগ, এই সমস্ত শ্রেণির মানুষকে বারবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করিয়ে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বলা হচ্ছে। তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে কার্যত তাঁদের অধিকার ও মর্যাদাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নেহার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে সমানাধিকার এবং গণতন্ত্রের মৌলিক ধারণা। তাঁর মতে, ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ কিংবা আর্থিক অবস্থানের ভিত্তিতে কোনও নাগরিকের অধিকার আলাদা হতে পারে না। একটি গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকের ভোটের মূল্য সমান হওয়া উচিত।
INDIA জোটের মহাসমাবেশে তাঁর এই বক্তব্যে ভোটার তালিকা, নাগরিকত্ব এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে চলা বিতর্ক নতুন করে গুরুত্ব পেল। ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নকে সামনে রেখেই কেন্দ্রের কাছে সমান মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরলেন AISA সভাপতি।




