নয়াদিল্লি: দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের মহাসমাবেশ থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে একের পর এক ইস্যুতে আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল ভোটার তালিকা, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র এবং সংবিধান রক্ষা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভোট চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বছরের পর বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
সভামঞ্চ থেকে রাহুলের অভিযোগ, সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েই ভোট চুরির ঘটনা ঘটছে। প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই ঘটনাকে সাধারণ চুরি নয়, বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাহুল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে CEC পদ থেকে সরানোর দাবি জানান তিনি। এমনকী, জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।
শুধু নির্বাচন প্রক্রিয়া নয়, দেশের কর্মসংস্থান ও সমানাধিকারের প্রশ্নও তুলে ধরেন রাহুল। তাঁর প্রশ্ন, যে পড়ুয়ারা দিনের পর দিন ১৮ ঘণ্টা ধরে পড়াশোনা করছেন, তাঁরা কেন চাকরি থেকে বঞ্চিত হবেন? দেশের প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
অন্যদিকে, শিল্পপতি আদানিকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে দেশ বিক্রির অভিযোগ তোলেন রাহুল। এই অভিযোগের দায় বিজেপিকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, তাঁরা কোথাও পালাতে পারবেন না।
বক্তব্যের শেষে রাহুল বলেন, তাঁর লড়াই কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং হিন্দুস্তানের প্রতিটি মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য। কেউ তাঁর শত্রু নন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মোদী ও অমিত শাহ দেশের আত্মার উপর আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ তুলে রাহুলের দাবি, এই প্রতিবাদ শুধু কোনও রাজনৈতিক দলের আন্দোলন নয়, গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই। তাঁর কথায়, এই প্রতিবাদ আসলে হিন্দুস্তানের গর্জন।




