নয়াদিল্লি: দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের ‘চলো দিল্লি’ মহাসমাবেশ ঘিরে রবিবার সকাল থেকেই উপচে পড়ল মানুষের ভিড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিরোধী জোটের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা এসে জমায়েত হন ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে। সেই বিপুল জনসমাগম দেখেই একে ‘জনসমুদ্র’ বলে বর্ণনা করলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বিরোধী শিবিরের মহাসমাবেশের ব্যাপকতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
রবিবার রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এই সমাবেশে কংগ্রেস-সহ INDIA জোটের একাধিক শরিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে দেখা যায় কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকে। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ।
সমাবেশের বিপুল ভিড়ের ছবিই তুলে ধরেছেন জয়রাম রমেশ। ‘রামলীলা ময়দানে জনসমুদ্র’ এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি জমায়েতে মানুষের উপস্থিতির মাত্রা বোঝানোর চেষ্টা করেন। ময়দানের ভিতরে এবং আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েত এই কর্মসূচিকে রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে।
কী কারণে এই মহাসমাবেশ? মূলত ভোটাধিকার রক্ষা, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের আপত্তি জানাতেই এক মঞ্চে হাজির হয়েছে INDIA জোটের শরিক দলগুলি। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখার দাবি তুলেছে বিরোধী শিবির।
অন্যদিকে, এই সমাবেশের উদ্দেশ্য এবং সময় নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। উৎসবের মরশুমে দিল্লির ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে রামলীলা ময়দানের এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধী নেতাদের এক মঞ্চে উপস্থিতি এবং বিপুল জনসমাগমের ছবি এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।




