নয়াদিল্লি: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হল। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের মহাসমাবেশ থেকে এবার সরাসরি তাঁর পদত্যাগের দাবি তুললেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তাঁর অভিযোগ, দেশের মানুষের নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা ক্রমশ কমছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে থারুর বলেন, মানুষ আর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উপর বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা এমন একজন ব্যক্তিকে চাই না, যিনি নিরপেক্ষ নন এবং ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন।’’ প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
থারুরের বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের অসন্তোষের কথাও। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যদি বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ে, তাহলে গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকারই প্রশ্নের মুখে পড়বে। ভোটাধিকার কোনও রাজনৈতিক দলের দয়া নয়, বরং দেশের প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার—এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ।
এখানেই থেমে থাকেননি থারুর। জনতার কণ্ঠস্বর যে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, সেই কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘মনে হচ্ছে মানুষের কণ্ঠস্বর জেগে উঠেছে। এবার জ্ঞানেশ কুমারের সেই কণ্ঠস্বর শোনা উচিত। তাঁর মধ্যে যদি সামান্যতম নৈতিক বিবেকও থাকে, তাহলে তাঁর বোঝা উচিত যে মানুষ তাঁর উপর আস্থা হারিয়েছেন। তাই তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।’’
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত।
দিল্লির এই মহাসমাবেশে INDIA জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা নিয়ে সরব হন বিরোধী নেতারা। শশী থারুরের এই মন্তব্যে সেই রাজনৈতিক সংঘাত আরও একবার প্রকাশ্যে এল।




