নিউজ ডেস্ক : আকাশের মুখ ভার, কখনও ঝিরঝিরে বৃষ্টি, আবার কখনও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট। রাত বাড়তেই আবহাওয়ার এই পরিবর্তন ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। রাজ্যের একাধিক জেলায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ প্রতিকূল হয়ে উঠেছে। কোথাও একটানা বৃষ্টি, কোথাও আবার দফায় দফায় বৃষ্টির সাথে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও সতর্কতা বাড়ছে।
ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' এর প্রভাবে এমনই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখে পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর শক্তি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি। তবে, শক্তি কমলেও তার প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।
বুধবার রাত থেকে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। রাতভর বৃষ্টির পাশাপাশি ভোরের দিকেও আবহাওয়ার অস্থিরতা বজাই ছিল। শহরের দৈনন্দিন জনজীবনে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনাতেও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
উপকূলবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বৃষ্টির পাশাপাশি সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সর্তকতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ঝাড়গ্রাম জেলাতেও অর্ণবের প্রভাব পড়েছে। টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সেখানে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়াতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় নজর রাখছেন বাসিন্দারা।
শুধুমাত্র দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
সব মিলিয়ে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে রাজ্যের আবহাওয়া এখন যথেষ্ট অস্থির। বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনীয় ভাবে বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলা এবং আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখা জরুরী। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে জেলাভিত্তিক দুর্যোগের মাত্রাও বদলাতে পারে।




