নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কড়া বার্তা দিতে এবার কলম ধরলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। উত্তর ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদে পুলিশের গুলিতে পরপর দুই অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে যখন বিতর্ক চরমে, ঠিক তখনই ‘এনকাউন্টার’ নামে একটি কবিতা লিখে নিজের ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি। তাঁর পঙ্ক্তিতে অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন কঠোরতা এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষাকেই প্রশাসনের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সম্প্রতি মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় দুই অভিযুক্ত। একজন উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭ বছর বয়সি স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত ছিল, অন্যজন মুর্শিদাবাদে বিজেপি কর্মীকে নৃসংশভাবে খুনের ঘটনায় ধৃত। পুলিশের দাবি, অপরাধের ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময়ে অভিযুক্তরা পুলিশকর্মীদের হাত থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করায় আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। এই ঘটনা দু’টিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
ঠিক এই আবহেই আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা লিখেছেন, “অপরাধ থামুক, মানুষ বাঁচুক, ভয়ের আঁধার কাটুক।” তাঁর মতে, যাঁদের কাঁধে মানুষের নিরাপত্তার ভার, তাঁদেরই অপরাধের বিরুদ্ধে বারবার রুখে দাঁড়াতে হবে। কবিতায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, অন্যায়ের সামনে মাথা নত করার কোনও জায়গা নেই, অপরাধ দমনে দরকার অটল কঠোরতা। পুলিশ বা প্রশাসনের কাজের জটিলতা এবং কঠিন পরিস্থিতির কথাও তিনি অস্বীকার করেননি। তাঁর কথায়, পরিস্থিতির চাপ কিংবা সিদ্ধান্তের বোঝা হয়তো সবসময় সহজ হয় না, তবে সাহসের মূল্যও কম নয়। কারণ দিনশেষে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার চেয়ে বড় আর কিছুই হতে পারে না। তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন, রাষ্ট্রের শক্তি যেন সর্বদাই সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়ায় এবং প্রতিটি ঘরে ফিরে আসে শান্ত সকাল।
ফ্যাশন দুনিয়া থেকে রাজনীতিতে আসা অগ্নিমিত্রা আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে কবিতা লিখেছেন। তবে তাঁর সাম্প্রতিক এই সৃষ্টি কেবল সাহিত্যচর্চা নয়, বরং বর্তমান রাজ্য সরকারের কড়া পুলিশি ব্যবস্থার একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ বা কড়া আইনশৃঙ্খলার বার্তাকেই এই কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধীদের তোলা মানবাধিকার ও এনকাউন্টারের বৈধতা সংক্রান্ত প্রশ্নের মাঝে, কোনও নির্দিষ্ট নাম বা ঘটনার উল্লেখ না করেই এই কবিতার মাধ্যমে সামগ্রিক অপরাধ ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার বিতর্ককে এক নতুন মাত্রা দিলেন মন্ত্রী।




