অসম: সরকারি চাকরির আশায় থাকা তরুণ-তরুণীদের জন্য বড় ঘোষণা অসম সরকারের। রাজ্যের ছ’টি সরকারি দফতরে মোট ৫,৭৩৪টি শূন্যপদে নিয়োগের প্রক্রিয়া আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এই নিয়োগের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার উদ্দেশ্যে চাকরিপ্রার্থীদের হাতে তিন মাস সময় রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অসমের ছ’টি দফতরে ৫,৭০০-রও বেশি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। তাঁর কথায়, চাকরিপ্রার্থীরা যাতে নিজেদের প্রস্তুতি সেরে নিতে পারেন, সে জন্য তাঁদের হাতে তিন মাস সময় রয়েছে। যোগ্যতা প্রমাণ করে ৫,৭৩৪টি পদের মধ্যে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার জন্য তরুণদের প্রস্তুতি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কোন দফতরে কত শূন্যপদ?
অসম সরকারের ঘোষিত নিয়োগে সবচেয়ে বেশি পদ রয়েছে রাজ্য পুলিশের। দফতরভিত্তিক শূন্যপদের সংখ্যা হল—
অসম পুলিশ: ২,২৩৬টি পদ
বন দফতর: ১,৩০৭টি পদ
হোম গার্ড: ৮২৭টি পদ
অসম পুলিশ রেডিও অর্গানাইজেশন (এপিআরও): ৬৮৪টি পদ
দমকল ও জরুরি পরিষেবা: ৪৮৯টি পদ
কারা দফতর: ১৯১টি পদ
সব মিলিয়ে ছ’টি দফতরে শূন্যপদের সংখ্যা ৫,৭৩৪। এর মধ্যে অসম পুলিশে নিয়োগের সুযোগ সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বন দফতর। ফলে পুলিশ ও বন দফতরে চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীদের কাছে এই নিয়োগ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কবে থেকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে?
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে কোন পদের জন্য কী শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন, বয়সের ঊর্ধ্বসীমা কত, আবেদন কবে থেকে করা যাবে এবং পরীক্ষার নির্দিষ্ট পদ্ধতি কী হবে—এই সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে চাকরিপ্রার্থীদের।
পুলিশ, বন দফতর, দমকল এবং কারা দফতরের মতো ক্ষেত্রে পদের ধরন অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা যাচাই বা অন্য পরীক্ষাও প্রয়োজন হতে পারে। তবে কোন পদে ঠিক কী ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই স্পষ্ট হবে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য পরামর্শ
নিয়োগের ঘোষণা সামনে আসার পর থেকেই প্রস্তুতির সময়সীমা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। আপাতত প্রার্থীদের উচিত নিজেদের পছন্দের দফতর ও পদের সম্ভাব্য যোগ্যতা সম্পর্কে খোঁজ রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করা। বিশেষত পুলিশ ও অন্যান্য শারীরিক সক্ষমতানির্ভর পদের ক্ষেত্রে প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শারীরিক অনুশীলনও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঘোষণা মানেই ওই দিন থেকেই আবেদনপত্র জমা নেওয়া শুরু হবে, এমনটা নিশ্চিত নয়। আবেদন শুরুর তারিখ, শেষ তারিখ, পরীক্ষার দিন এবং অন্যান্য শর্ত জানতে সংশ্লিষ্ট দফতরের সরকারি বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।




