এলাহাবাদ: উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরের ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে মাত্র ছ’মাসে ১১টি মামলায় ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন তিনি। এ বার সেই বিচারক রবিকুমার দিবাকরকে পারিবারিক আদালতে বদলি করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। নতুন দায়িত্বে তিনি মুজফ্ফরনগরের পারিবারিক আদালতের অতিরিক্ত প্রধান বিচারক হিসেবে কাজ করবেন। রবিবার এই বদলির খবর সামনে আসার পরেই বিচারককে ঘিরে ফের চর্চা শুরু হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রবিকুমার দিবাকর মুজফ্ফরনগরের ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের দায়িত্বে ছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁর আদালত ১১টি মামলায় মোট ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। হাই কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁর জায়গায় ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন শিবকুমারী। তবে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়ার কারণেই দিবাকরকে বদলি করা হয়েছে, এমন কোনও কথা বদলির নির্দেশে বলা হয়নি।
৯৭টি ফৌজদারি মামলা সরানো নিয়ে প্রশ্ন
বিচারক দিবাকরকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর আদালত থেকে ৯৭টি বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার নথি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা। গত অগস্টে তৎকালীন জেলা ও দায়রা বিচারক বি কে সিং প্রশাসনিক নির্দেশে ওই মামলাগুলি দিবাকরের আদালত থেকে সরিয়ে দেন। মামলাগুলির মধ্যে খুন-সহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দিবাকর।
প্রায় এক দশক পুরনো মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক পদার্থ সংক্রান্ত আইনের একটি মামলায় ৩৫ পাতার রায় দিতে গিয়ে তিনি জানতে চান, যে মামলাগুলির শুনানি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে, সেগুলি কি নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই শুধু প্রশাসনিক নির্দেশে অন্য আদালতে সরিয়ে দেওয়া যায়?
ওই মামলায় অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করার পাশাপাশি বিচারক প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ, তার সীমা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ঘিরে বিচারব্যবস্থার অভ্যন্তরে আদালতের কাজ বণ্টন ও বিচারাধীন মামলা অন্য আদালতে সরানোর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে মামলাগুলি সরানোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং দিবাকরের সাম্প্রতিক বদলির মধ্যে সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে, এমন তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
গনভি মসজিদ মামলাতেও শিরোনামে এসেছিলেন
এর আগেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার সূত্রে জাতীয় স্তরে আলোচনায় এসেছিলেন বিচারক দিবাকর। ২০২২ সালের মে মাসে বারাণসীতে কর্মরত থাকাকালীন জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে আদালতের তত্ত্বাবধানে ভিডিয়োগ্রাফি সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। মসজিদ চত্বরের শৃঙ্গার গৌরী স্থানে পুজোর অধিকার নিয়ে হিন্দু আবেদনকারীদের মামলার প্রেক্ষিতে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সমীক্ষার সময় মসজিদের অজুখানায় একটি কাঠামোকে শিবলিঙ্গ বলে দাবি করেন হিন্দু আবেদনকারীরা। মুসলিম পক্ষ অবশ্য সেই দাবি অস্বীকার করে। পরে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি বারাণসীর জেলা বিচারকের আদালতে পাঠিয়ে দেয়। ওই নির্দেশের পর বিচারক দিবাকর হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর নিরাপত্তা নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়। পরবর্তী সময়েও তিনি হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন।
ফাস্ট ট্র্যাক থেকে পারিবারিক আদালত
এ বার এলাহাবাদ হাই কোর্টের বদলির নির্দেশে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পারিবারিক আদালতের অতিরিক্ত প্রধান বিচারকের দায়িত্ব দেওয়া হল দিবাকরকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নিতে চলেছেন শিবকুমারী। একদিকে ছ’মাসে ২৩টি মৃত্যুদণ্ডের সাজা, অন্যদিকে বিচারাধীন মামলা সরিয়ে নেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন—দুই ঘটনাতেই আলোচনায় ছিলেন এই বিচারক। তবে তাঁর নতুন পদে বদলির পিছনে নির্দিষ্ট কোনও কারণ সরকারি নির্দেশে জানানো হয়নি।




