কী বলা যায় একে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রাক্ষুসে গ্রাস না মানবিকতার হাহাকার? আর, হঠাৎ এই প্রশ্ন উঠল কেন? উঠল, কারণ আইটি সেক্টরে বিরাট প্রশ্নের মুখে বহুসংখ্যক কর্মী। ঘাড়ের ওপর আসতে চলেছে ছাঁটাইয়ের কোপ! বিশ্বের নামী আইটি কোম্পানিগুলির অন্যতম 'ওরাকল' করতে চলেছে 'বিশাল ছাঁটাই'। এরই মধ্যে ম্যানেজারদের কাছে চাওয়া হয়েছে কর্ম এবং কর্মী সংক্রান্ত রিপোর্ট। জানা গিয়েছে, ওরাকল কোম্পানি ঠারেঠোরে জানিয়েছে, এখন থেকেই চাকরি-বাকরি না খুঁজলে হঠাৎ সমস্যা বাড়তে পারে।
এর আগেও এইবছর মার্চ মাসে একধাক্কায় ১০০০০ জন কর্মী ছাঁটাই করে এই কোম্পানি। সেবার সকাল ৬ টার আগেই এসেছিল ওরাকলের 'ছাঁটাই মেইল'। কর্মীরা এই নোটিশ দেখে হতভম্ব হয়ে যান - 'কোম্পানি আপনার পদটি রাখছে না।' তখনই সিস্টেম একসেস বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবারও হয়তো একই পথে যেতে চলেছে কোম্পানি। সূত্র থেকে এমনটাই জানা গেছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে,১লা সেপ্টেম্বরের আগেই এই মেল ঢুকতে পারে কর্মীদের ইনবক্সে। ঠিক আগের বারের মতোই সকাল ৬টার আগেই ঢুকে যেতে পারে 'ছাঁটাই মেইল'। ইতিমধ্যেই ২১০০০ জনের চাকরি চলে গেছে কোম্পানির তরফে। ৩১শে মে'র আগে এই ধরনের চাকরি ছাঁটাই করেছিল ওরাকল। কোম্পানিটি বিশ্বের বাজারে এই মুহূর্তে ১৬২০০০ কর্মী থেকে বর্তমানে ১৪১০০০ কর্মী নিয়ে কাজ করছে। এটা বোঝা যাচ্ছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কাজের বাজারে থাবা বসিয়েছে। এই কারণেই কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে বার বার হাঁটছে ওরাকল।
কোম্পানির আর্থিক পরিসংখ্যান বা ইকোনমিকাল রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, ২০২৬ অর্থবর্ষে ওরাকল তার পরিকাঠামো নির্মাণে এখনও অবধি ৫৫.৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। আই ও ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরিতে সবথেকে বেশি খরচ হয়েছে। এ ছাড়াও ঋণ ও নানান কারণে কোম্পানির ১.৮৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। আর তাই কষ্ট ম্যানেজমেন্টের নিয়ম মেনে, কর্মী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে কোম্পানির কস্ট বাঁচাচ্ছে ব্যবস্থাপকরা।
তবে সূত্র জানাচ্ছে, এখনও কত শতাংশের বেশি কর্মী ছাঁটাই হবে, সে বিষয়ে ম্যানেজমেন্ট কোনও স্থির সিদ্ধান্ত নেয়নি। এছাড়াও এই ছাঁটাই জল্পনা নিয়ে এখনও ওরাকলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে এই টেক কোম্পানিগুলির মধ্যে ওরাকল ছাড়াও রয়েছে মেটা, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, গুগল ক্লাউডের মতো কোম্পানিও। তারাও শুরু করেছে বহু কর্মী ছাঁটাই। কারণ হিসেবে উঠে আসছে এআই প্রযুক্তি, যার কথা শুরুতেই বলা হয়েছে! সিটি