লুধিয়ানা: বিয়ের পর উপহার নয়, যেন দাবির তালিকা! কখনও মহিন্দ্রা থার, কখনও মোটরবাইক। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় স্ত্রীকে রাস্তায় ফেলে মারধরের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। পঞ্জাবের লুধিয়ানার এই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরে টানাটানি, রাস্তায় ফেলে মারধর—কিছুই বাদ যায়নি। প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েও রেহাই পাননি ওই মহিলা। তাঁর অভিযোগ, স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে আগেও পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।
ঘটনাটি লুধিয়ানার জাসিয়া গ্রিন এনক্লেভ এলাকার। আক্রান্ত মহিলার নাম টুইঙ্কল। তিনি পেশায় স্যালোঁর মালিক। অভিযুক্ত স্বামী রিতীশ শর্মা স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। টুইঙ্কলের অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই মহিন্দ্রা থার গাড়ির দাবি তুলতে শুরু করেন রিতীশ। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় দাম্পত্যে অশান্তি বাড়তে থাকে। পরে মোটরবাইক চাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিবাদ বাধে।
অভিযোগ, গত ২১ অক্টোবর রাতে সেই বিবাদই চরমে ওঠে। স্বামীর হাত থেকে বাঁচতে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিতে যান টুইঙ্কল। কিন্তু সেখানেও তাঁর পিছু নেন রিতীশ। এর পরেই তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মহিলাকে রাস্তায় ফেলে আক্রমণ করা হচ্ছে। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে হস্তক্ষেপ করেন। তাঁদের তৎপরতায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে টুইঙ্কলের ভাই গৌরব ও পরিবারের অন্য সদস্যেরা সেখানে পৌঁছন। গৌরবের অভিযোগ, বোনকে উদ্ধার করতে গেলে তাঁদের উপরেও হামলা চালানো হয়। তাঁর মাথায় আঘাত লাগে এবং সেলাই করাতে হয় বলে দাবি পরিবারের। গোটা ঘটনায় আতঙ্কিত টুইঙ্কল ও তাঁর পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
টুইঙ্কলের দাবি, রিতীশের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল প্রায় দু’বছর আগে। তখন তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল। পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা, তার পর বিয়ে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। টুইঙ্কলের এটি দ্বিতীয় বিয়ে, অন্য দিকে রিতীশের প্রথম। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই দামি গাড়ির দাবি ঘিরে সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি মেটাতে এক মধ্যস্থতাকারীর সাহায্যে আলোচনাও হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তাতেও সমস্যা মেটেনি। বরং মোটরবাইকের দাবি ঘিরে ফের অশান্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ টুইঙ্কলের।
টুইঙ্কলের আরও অভিযোগ, স্বামীর অত্যাচারের কথা তিনি আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি, সে সময় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং আগের অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আক্রান্ত মহিলার বয়ান ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিয়ের পর দামি গাড়ি ও মোটরবাইকের দাবি, তা ঘিরে দাম্পত্যে অশান্তি এবং শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ, লুধিয়ানার এই ঘটনা ফের গার্হস্থ্য হিংসা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।




