নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। সোমবার দেশজুড়ে প্রতিবাদে নামল বিজেপি। খড়্গের ক্ষমাপ্রার্থনার পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা সরব হয়েছে কংগ্রেস। দুই দলের নেতাদের বাকযুদ্ধে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার বিহারের পটনায় একটি অনুষ্ঠানে। সেখানে এক শ্রোতা প্রধানমন্ত্রী মোদী কোথাও যাবেন না বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তার জবাব দিতে গিয়ে খড়্গে ‘মোদী কা বাপ ভি জায়েগা’ কথাটি বলেন। বিজেপির অভিযোগ, এই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে অসম্মান করার শামিল। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও জোরদার করেছে বিজেপি।
খড়্গের মন্তব্যে সরব রাজনাথ, নিশানায় কংগ্রেস
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই মন্তব্যে বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের সভাপতি কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন? একই সঙ্গে খড়্গের বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ না করে কংগ্রেস তাঁকে সমর্থন করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশিও কংগ্রেস নেতৃত্বকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক আলোচনার মান নামিয়ে আনছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, রাহুলের পরিণতিবোধ নিয়ে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলেছে, এখন কংগ্রেসের অন্য নেতাদের আচরণেও সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বিজেপির তরফে একাধিক রাজ্যে দলীয় কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিহারে বিজেপি নেতা-কর্মীরা মিছিল করেন, খড়্গের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাঁর কুশপুতুল পোড়ান। জম্মুতেও প্রতিবাদের খবর পাওয়া গিয়েছে। দিল্লি, মুম্বই, রাঁচী, কলকাতা ও বেঙ্গালুরু-সহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনাও করা হয়।
পাল্টা জবাব কংগ্রেসের
বিজেপির অভিযোগ মানতে নারাজ কংগ্রেস নেতারা। তাঁদের পাল্টা দাবি, রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে বেছে বেছে ক্ষোভ প্রকাশ করছে শাসকদল। কর্নাটকের মন্ত্রী তথা খড়্গের ছেলে প্রিয়াঙ্ক খড়্গে অভিযোগ করেন, বিজেপি ছোটখাটো বিতর্ককে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করে। অতীতে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধেও কংগ্রেস নেতৃত্বকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।
রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD)-এর সাংসদ মনোজ ঝা অবশ্য বলেন, খড়্গের মতো প্রবীণ নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। তবে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ উঠলে একই ধরনের প্রতিবাদ কেন দেখা যায় না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
ব্যক্তিগত আক্রমণ ঘিরে নতুন বিতর্ক
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বক্তব্যের ভাষা ও শালীনতা নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি খড়্গের ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবিতে অনড়। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতারা বিজেপির প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্যের বিতর্ক আপাতত দুই দলের সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা কোথায় হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।




