স্পোর্টস ডেস্ক: পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের জয়ে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের পর সমাজমাধ্যমে দলকে অভিনন্দন জানালেন তিনি। কিন্তু সেই অভিনন্দন বার্তাই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নেটাগরিকদের একাংশের কটাক্ষ, একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এত উচ্ছ্বাস কেন? এর আগেও হংকং সিক্সেসে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয়ের পর অভিনন্দন জানিয়ে ট্রোলড হয়েছিলেন তিনি। এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।
শনিবার লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে এক দিনের ক্রিকেটের ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে তিন উইকেটে হারায় পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা ৩২৫ রান তুলেছিল। জবাবে ফখর জামানের দুরন্ত শতরান এবং আরাফাত মিনহাসের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৪৮.৩ ওভারে ৩৩১ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান। ২৪ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়ের স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছে এই ম্যাচ।
পাকিস্তানের এই জয়ের পর এক্স-এ অভিনন্দন বার্তা দেন শেহবাজ। ফখর জামানের শতরান এবং তরুণ ক্রিকেটার আরাফাত মিনহাস ও হাসান নওয়াজের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের জন্য অভিনন্দন পাকিস্তান!’
এর পর ফখরের শতরান এবং দুই তরুণ ক্রিকেটারের জুটির প্রশংসা করে তিনি লেখেন, ‘ফখর জামানের অসাধারণ শতরানের পর দুই প্রতিশ্রুতিমান তরুণ প্রতিভার দুর্দান্ত জুটি।’ দলের ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এবং সমর্থকদেরও অভিনন্দন জানান তিনি। ভবিষ্যতে পাকিস্তান ক্রিকেটের আরও সাফল্য কামনা করেন শেহবাজ। কিন্তু তাঁর এই বার্তাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে কটাক্ষ। সমাজমাধ্যমে এক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, ‘সিরিজ জেতা ভালো কথা। কিন্তু এটা কোনও বড় প্রতিযোগিতা নয়। প্রধানমন্ত্রী হয়ে এমন একটি সিরিজ নিয়ে এত উচ্ছ্বাস দেখানোটা বিব্রতকর।’ আর এক ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘এর পর হয়তো টস জেতার জন্যও পাকিস্তানকে অভিনন্দন জানাবেন প্রধানমন্ত্রী।’
কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ক্রিকেট দলের প্রতিটি জয় নিয়ে এ ভাবে পোস্ট করার প্রয়োজন কী? কয়েক জনের মতে, পাকিস্তানের ক্রিকেটে এমন সাফল্য নতুন কিছু নয়। তাই ত্রিদেশীয় সিরিজের জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দেওয়াটা বাড়াবাড়ি।
প্রসঙ্গত, এর আগেও হংকং সিক্সেসে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয়ের পর অভিনন্দন বার্তা দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন শেহবাজ। ছ’জনের ক্রিকেটের সেই প্রতিযোগিতায় ভারতকে হারানোর পর তাঁর উচ্ছ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন নেটাগরিকদের একাংশ। কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে এক সপ্তাহের সরকারি ছুটি ঘোষণার পরামর্শও দিয়েছিলেন।
এ বার ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের পরেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেল। তবে সমালোচনার মধ্যেও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কৃতিত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। ৩২৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করে ফখর জামান, সাদ বেগ এবং আরাফাত মিনহাসদের দাপটে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ট্রফি জয়ের আনন্দে তাই মেতেছে পাকিস্তান ক্রিকেট।




