স্পোর্টস ডেস্ক: নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম তিনটি টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ আগেই পকেটে পুরেছিল ভারত। কিন্তু চতুর্থ ম্যাচে অকল্যান্ডে ৮৭ রানে হারের পরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শ্রেয়স আয়ারের অধিনায়কত্ব নিয়ে। ২৫৯ রান তুলেছিল নিউ জিল্যান্ড। সেই রান তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানে শেষ হয়ে যায় ভারতের ইনিংস। ম্যাচের ফলাফল এক দিকে, কিন্তু তার থেকেও বেশি আলোচনায় ভারতীয় দলের বোলিং এবং অধিনায়কের সিদ্ধান্ত। এবার শ্রেয়সের অধিনায়কত্বের একটি বড় দুর্বলতা প্রকাশ্যে আনলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ।
কাইফের বক্তব্য, বারবার একই ভুল করছেন শ্রেয়স। বিশেষ করে বোলারদের ব্যবহার এবং কোন বোলারকে কখন আক্রমণে আনা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শুধু নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ নয়, আইপিএলেও শ্রেয়সের অধিনায়কত্বে একই সমস্যা দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার।
কাইফের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষ পাঁচ ওভারের জন্য দলের প্রধান বোলারদের হাতে ওভার রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু শ্রেয়সের নেতৃত্বে ভারতীয় দলের ক্ষেত্রে সেই পরিকল্পনার অভাব দেখা যাচ্ছে। অকল্যান্ডে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে শেষের দিকে গুরুত্বপূর্ণ ওভার করতে হয়েছে নীতীশ কুমার রেড্ডিকে। কাইফ বলেন, ‘শ্রেয়স আয়ারকে এই হার থেকে শিক্ষা নিতে হবে। বোলারদের ব্যবহার এবং কোন বোলারকে কখন আক্রমণে আনা উচিত, সেই বিষয়ে ওর অধিনায়কত্বে কিছু খামতি রয়েছে। আমি শুধু একটা ম্যাচের কথা বলছি না। একই ভুল বারবার হচ্ছে।’
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। চার ওভারে ৬৪ রান খরচ করেন তিনি। অন্য দিকে, গ্লেন ফিলিপস ৪৯ বলে ১০৭ এবং মাইকেল ব্রেসওয়েল মাত্র ২৫ বলে ৬৫ রান করে ভারতীয় বোলিংকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন।
নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসের শেষ ন’ওভারেই ১৪৬ রান ওঠে। সেই সময় ভারতীয় বোলারদের মধ্যে কেউই রান আটকাতে পারেননি। কাইফের বক্তব্য, নীতীশকে দলের পঞ্চম বা ষষ্ঠ বোলার হিসাবে ব্যবহার করা উচিত। তাঁকে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শেষ ওভার করানোর পরিবর্তে মাঝের ওভারগুলিতে তাঁর কোটা শেষ করে দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘সাধারণত ১৭ এবং ১৯ নম্বর ওভারের জন্য দলের প্রধান বোলারদের তুলে রাখা হয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটাই প্রাথমিক পরিকল্পনা। নীতীশ তোমার পুরোপুরি বোলার নয়। ওকে পঞ্চম বা ষষ্ঠ বোলার হিসাবে ব্যবহার করা উচিত। মাঝের ওভারগুলিতে ওর ওভার শেষ করে দিতে হবে।’ কাইফের মতে, শেষ পাঁচ ওভার বাকি থাকতে অর্শদীপ সিং এবং ভুবনেশ্বর কুমারের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের হাতে পর্যাপ্ত ওভার থাকা উচিত। কারণ, শেষ দিকে ব্যাটাররা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। সেই সময় দলের সেরা বোলারদের ব্যবহার করতে না পারলে বিপদ বাড়ে।
শ্রেয়সের অধিনায়কত্ব নিয়ে কাইফের সমালোচনা শুধু ভারতীয় দলকে ঘিরে নয়। আইপিএলে পঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক হিসাবেও একই ধরনের সমস্যা দেখা গিয়েছে বলে দাবি তাঁর। কাইফের বক্তব্য, আইপিএলে শ্রেয়সের নেতৃত্বে পঞ্জাব কিংস ন’বার ২০০ বা তার বেশি রান দিয়েছে প্রতিপক্ষকে। কাইফ বলেন, ‘শ্রেয়সের বোলিং পরিবর্তন এবং কৌশলে কিছু খামতি রয়েছে। আমি শুধু একটি হারের পরে এই কথা বলছি না। আইপিএলেও একই ঘটনা দেখা গিয়েছে। পঞ্জাব কিংস ন’বার ২০০-র বেশি রান দিয়েছে। এই বিষয়ে অনেক কাজ করতে হবে।’
ভারতের বোলিং কোচ মর্নে মরকেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কাইফ। তাঁর মতে, বোলিংয়ের এই দুর্বলতার দায় শুধু অধিনায়কের নয়, কোচেরও। দলের বোলাররা কেন বারবার একই ভুল করছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।
কাইফের মতে, ভারতীয় দল সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বড় রান তাড়া করে জিতলেও বোলিংয়ের দুর্বলতা আড়াল হয়ে যাচ্ছে। প্রথম তিনটি টি-টোয়েন্টিতে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ২২৬, ১৮১ এবং ১৯৯ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। কিন্তু ২৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে দল।
কাইফের বক্তব্য, ‘ভারতীয় দলের ব্যাটিং এতটাই ভালো যে ২০০ রান তাড়া করাও এখন সহজ মনে হচ্ছে। কিন্তু সব সময় ২০০ বা ২৫০ রান তাড়া করা সম্ভব নয়। এই হার আসারই ছিল। বোলিং নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে।’ ভারতীয় দলের ব্যাটিং শক্তিশালী হলেও বোলিংয়ের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জিতলেও চতুর্থ ম্যাচের হার সেই সমস্যাকে সামনে এনে দিয়েছে।
অধিনায়কত্বের পাশাপাশি শ্রেয়সের ব্যাটিং নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলার পর থেকে ধারাবাহিকতা হারিয়েছেন তিনি। পরের আটটি ইনিংসে তাঁর রান ৪০, ১, ১৬, ২২, ৪২, ৭, ৫ এবং ২২।
অকল্যান্ডে ১১ বলে ২২ রান করে আউট হন শ্রেয়স। শুরুতেই তিন উইকেট হারানো ভারতের তখন অধিনায়কের কাছ থেকে বড় ইনিংস প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেননি তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ২৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৬৬৬ রান করেছেন শ্রেয়স। গড় ৩১.৭১, স্ট্রাইক রেট ১৪৯। পরিসংখ্যান খুব খারাপ নয়। কিন্তু অধিনায়ক হিসাবে দলের বিপদের সময়ে তাঁকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে।




