স্পোর্টস ডেস্ক: সিরিজ আগেই পকেটে পুরে ফেলেছিল ভারত। তাই হ্যামিল্টনে পঞ্চম তথা শেষ টি-টোয়েন্টি ছিল নিউজিল্যান্ডের কাছে সম্মানরক্ষার লড়াই। সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল কিউয়িরাই। টিম সাইফার্টের বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং গ্লেন ফিলিপসের দায়িত্বশীল ইনিংসের দাপটে ভারতকে সাত উইকেটে হারাল নিউজিল্যান্ড। ১৯২ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৮ ওভারেই তুলে নিল তারা। তবে এই হারের পরেও পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতে নিল ভারত।
টসে জিতে প্রথমে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি ভারতের। প্রথম ওভারেই অভিষেক শর্মা (১) ফিরে যান। তার পর সঞ্জু স্যামসনও (৪) বেশি দূর এগোতে পারেননি। মাত্র ১৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। সেই পরিস্থিতি থেকে দলকে লড়াইয়ে ফেরান ঈশান কিষান এবং অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। দু’জনে মিলে তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন ঈশান। মাত্র ৩২ বলে ৬১ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার এবং পাঁচটি ছয়। অন্য প্রান্তে আরও আগ্রাসী ছিলেন শ্রেয়স। মাত্র ২৩ বলে ৫০ রান করে সাজঘরে ফেরেন ভারত অধিনায়ক। তাঁর ব্যাট থেকে আসে তিনটি চার এবং চারটি ছয়। দুই ব্যাটারের দাপটে একসময় বড়ো রানের দিকে এগোচ্ছিল ভারত।
তবে শ্রেয়স এবং ঈশান ফিরে যাওয়ার পরে ভারতীয় ইনিংসে কিছুটা ছন্দপতন হয়। তিলক বর্মা করেন ৬ রান। নমন ধীর ২৩ বলে ৩৩ এবং নীতীশ কুমার রেড্ডি ১৭ বলে ২২ রান করে দলকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেন। শেষ দিকে ভুবনেশ্বর কুমার করেন ৬ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯১ রান। নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুরন্ত বোলিং করেন অ্যাডাম মিলনে। ১৯ রান দিয়ে চার উইকেট তুলে নেন তিনি। নাথান স্মিথ এবং ব্লেয়ার টিকনার পান দু’টি করে উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ফিন অ্যালেনকে (২) হারায় নিউজিল্যান্ড। কিন্তু তাতে বিশেষ সমস্যা হয়নি স্বাগতিকদের। সাইফার্ট এবং ড্যারিল মিচেল দ্রুত রান তুলতে থাকেন। মিচেল ১৬ বলে ২৯ রান করে ফিরে গেলেও ক্রিজে জমে যান সাইফার্ট। মাত্র ৫০ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ১১টি চার এবং পাঁচটি ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। শতরানের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছতে পারেননি সাইফার্ট। নীতীশ কুমার রেড্ডির বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাঁকে।
এর পরেও অবশ্য ভারতের ম্যাচে ফেরার কোনও সুযোগ ছিল না। গ্লেন ফিলিপসের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাকি কাজ শেষ করেন সাইফার্ট। পরে ফিলিপস একাই ম্যাচ শেষ করে দেন। মাত্র ৩৮ বলে ৬৫ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার এবং তিনটি ছয়। ১৮ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড। ১২ বল বাকি থাকতেই সাত উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় তারা।
এই সিরিজে অবশ্য ভারতের দাপটই বেশি ছিল। প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছিল ভারত। শেষ দু’টি ম্যাচ জিতে ব্যবধান কমাল নিউজিল্যান্ড। বিশেষ করে শেষ ম্যাচে সাইফার্ট ও ফিলিপসের ব্যাটিং ভারতীয় বোলিংকে কার্যত নিষ্প্রভ করে দেয়। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতেই দেশে ফিরছে ভারত।




