নিউজ ডেস্ক: পোলিও নির্মূলের লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে পাকিস্তানে। আর সেই কর্মসূচিতে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও টিকাকরণ দলগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করাচিতে ৮ হাজারের বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করেছে প্রশাসন। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকাতেও একই সঙ্গে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বালুচিস্তান প্রদেশের ৩১টি জেলায় বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে কাজ করছেন টিকাকরণ কর্মীরা।
করাচির কমিশনার সৈয়দ হাসান নকভি জানিয়েছেন, অতীতে টিকাকরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিক হামলা ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ বার টিকাকরণ দলগুলির সুরক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় আচমকা তল্লাশি, পুলিশের গাড়ি এবং মোটরবাইকে টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।
পাকিস্তানে পোলিও টিকাকরণ অভিযান বার বার হিংসা ও বাধার মুখে পড়েছে। রবিবারই দেশটির ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার পোলিও আক্রান্তের নতুন একটি ঘটনা নিশ্চিত করেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের খাইবার জেলায় ওই সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নতুন করে আক্রান্তের সন্ধান মেলার পরেই টিকাকরণ কর্মসূচির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
টিকাকরণে বাধা শুধু হামলা বা নিরাপত্তার অভাবেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন এলাকায় টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ও ভ্রান্ত ধারণার কারণেও অনেকে শিশুদের টিকা দিতে চান না। টিকা দিলে বন্ধ্যাত্ব বা পুরুষত্বহীনতা দেখা দিতে পারে—এমন ভিত্তিহীন প্রচার রয়েছে কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে। ধর্মীয় আপত্তির কথাও সামনে আসে। ফলে স্বাস্থ্যকর্মীদের একদিকে যেমন নিরাপত্তার ঝুঁকি সামলাতে হচ্ছে, অন্য দিকে অভিভাবকদের বোঝানোর চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে বালুচিস্তানের নুশকি জেলায় পোলিও টিকাকরণ দলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশকর্মীকে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। এই ধরনের হামলার কারণে টিকাকরণ কর্মসূচিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন।
২০২৫ সালে করাচিতে পোলিও টিকাকরণ অভিযানের সময় প্রায় ৪১ হাজার ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের টিকা দিতে অস্বীকার করেছিলেন বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক স্বাস্থ্য দফতর। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, টিকা নিয়ে অনীহা ও ভুল ধারণা দূর করাও পাকিস্তানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানই বিশ্বের একমাত্র দুই দেশ, যেখানে এখনও পোলিও স্থানীয় ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ব জুড়ে এই ভাইরাস নির্মূলের চেষ্টা চললেও নিরাপত্তার সমস্যা, টিকা নিয়ে অনীহা এবং অপপ্রচার সেই উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই শুধু টিকাকরণ বাড়ানো নয়, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাও পাকিস্তানের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।




