ঢাকা: বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের আন্দোলন ক্রমশ হিংসাত্মক চেহারা নিচ্ছে। সোমবারও ঢাকা, গাজীপুর-সহ একাধিক শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, পথ অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও পুলিশের গাড়িতে আগুন, কোথাও ভাঙচুর। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। অশান্তির জেরে গাজীপুরের ১৫০টিরও বেশি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই আন্দোলনে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। সোমবার সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। একইভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল সংযোগকারী রাস্তার সফিপুর এলাকাতেও অবরোধ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
গাজীপুরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সফিপুর এলাকায় আরও একটি পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, শ্রমিক আন্দোলনের জেরে ১৫০টিরও বেশি কারখানায় সোমবার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়াতেও সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। উত্তেজনার মধ্যে একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। মিরপুরের বিভিন্ন এলাকাতেও বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
এই আন্দোলনের পিছনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগও তুলেছে বাংলাদেশের সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দাবি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এমন এক শ্রেণির পোশাক কারখানার মালিক শ্রমিক অসন্তোষকে উস্কানি দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও এই অস্থিরতার পিছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের যোগ থাকার অভিযোগ তুলেছেন। যদিও এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হওয়ার তথ্য সামনে আসেনি।
উল্লেখ্য, রবিবারের সংঘর্ষের পর থেকেই ঢাকা ও গাজীপুরে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবি, রাত পর্যন্ত ৪৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও তার বিভিন্ন শাখা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে দাবি প্রশাসনের।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এবার রাজনৈতিক বিতর্ক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের দাবি, প্রশাসনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ একদিকে শিল্পাঞ্চলে শান্তি ফেরানো, অন্যদিকে বেতন নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষের সমাধান করা।




