নিউজ ডেস্ক: সাইবার হামলার শিকার ইউক্রেন ও রাশিয়ার জরুরি সতর্কতা সংক্রান্ত মোবাইল অ্যাপ। রবিবার রাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিপজ্জনক মাত্রায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ভুয়ো সতর্কবার্তা পান বহু ব্যবহারকারী। একই ভাবে রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রকের অ্যাপেও হ্যাকাররা ঢুকে ভুয়ো বিপদবার্তা পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ইউক্রেনের বিমান হামলা সংক্রান্ত সতর্কতা চ্যানেল জানায়, অননুমোদিত ব্যক্তিরা অ্যাপের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করায় সাময়িক ভাবে পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছিল। সন্দেহজনক বিজ্ঞপ্তিতে থাকা লিঙ্কে ক্লিক না করার পরামর্শও দেওয়া হয়। পরে রাতের মধ্যেই অ্যাপের পরিষেবা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় প্রশাসন।
হ্যাকারদের পাঠানো ভুয়ো বার্তায় কিয়েভে তেজস্ক্রিয়তার বিপজ্জনক মাত্রা, রাসায়নিক হামলা এবং জনবিক্ষোভের মতো একাধিক দাবি করা হয়েছিল। বার্তাগুলিতে ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি রুশ ও ইউক্রেনীয় ভাষার মিশ্রণ ছিল। একটি বার্তায় হ্যাকিং গোষ্ঠী হিটকোরের নাম উল্লেখ করা হয়। রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেল ‘ম্যাশ’ দাবি করে, ওই গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে সেই দাবি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।
ইউক্রেনের বায়ুসেনার মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানিয়েছেন, এই হামলায় দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অভিযান ব্যাহত হয়নি। কারণ, অ্যাপটি সামরিক কমান্ড ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নয়। অন্য দিকে, রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের বৃহত্তর সতর্কতা ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। এসএমএস, সংবাদমাধ্যম এবং পুরসভার সাইরেনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘সমস্ত সরকারি সংস্থাকে নিজেদের ডিজিটাল সম্পদের সাইবার নিরাপত্তা বাড়ানোর পদক্ষেপ করতে হবে।’
এদিকে, ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে মানবিক কারণে চালু হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। খেরসন শহরে হামলায় ৬২ বছরের এক মহিলা ও ৭৩ বছরের এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
গত ২৭ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি ওলেশকি শহরে মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কার্যকর হয়েছিল। ওই শহর থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার বিরল যৌথ অভিযান শনিবার শেষ হয়।
এছাড়া খারকিভ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ১২ জন এবং ওডেসায় পাঁচ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, সোমবার রাতে তারা ২১২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।




