কলকাতা: বাসে উঠলেই এবার গুনতে হতে পারে ১৮ টাকা! কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে সরব হলেন বাসমালিকেরা। ন্যূনতম ভাড়া ১৮ টাকা করার প্রস্তাব দিয়ে পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহের কাছে চিঠি পাঠাল বাসমালিকদের সংগঠন। প্রস্তাব কার্যকর হলে সাধারণ যাত্রীদের পকেটে যে বাড়তি চাপ পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটসের তরফে এই প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ২০১৮ সালের পর থেকে সরকারি ভাবে বাসভাড়া বাড়েনি। অথচ এই কয়েক বছরে জ্বালানি, বাসের রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের বেতনের খরচ অনেকটাই বেড়েছে। করোনা অতিমারির পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। ফলে বেসরকারি বাস পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া ক্রমশ সমস্যার হয়ে দাঁড়াচ্ছে মালিকদের কাছে।
সংগঠনের প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী, কলকাতায় সাধারণ বাসে প্রথম ৪ কিলোমিটারের ভাড়া ১৮ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। ৪ থেকে ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত ২০ টাকা, ৬ থেকে ৮ কিলোমিটারে ২২ টাকা, ৮ থেকে ১২ কিলোমিটারে ২৪ টাকা এবং ১২ থেকে ১৬ কিলোমিটারে ২৬ টাকা ভাড়ার প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে ১৬ থেকে ২০ কিলোমিটারে ২৮ টাকা এবং ২০ থেকে ২২ কিলোমিটারে ৩০ টাকা ভাড়া চাওয়া হয়েছে।
শুধু কলকাতা নয়, জেলার বাসগুলির ক্ষেত্রেও ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জেলা শহরে সাধারণ বাসে প্রথম ৪ কিলোমিটারের জন্য ২০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ২০ পয়সা দাবি করা হয়েছে। এক্সপ্রেস বাসে প্রথম ৪ কিলোমিটারে ২৫ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৫০ পয়সা ভাড়া চাওয়া হয়েছে। সাধারণ এসি বাসের ক্ষেত্রে প্রথম ৪ কিলোমিটারে ৪০ টাকা এবং ভলভো বাসে প্রথম ২ কিলোমিটারে ৫০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
বাসমালিকদের দাবি, বছরে গড়ে মাত্র ২৭০ দিন বাস চালানো সম্ভব। অথচ সারা বছরই ব্যাঙ্কের কিস্তি, রোড ট্যাক্স, বিমা, ফিটনেস সার্টিফিকেট, জ্বালানি এবং কর্মীদের বেতনের মতো খরচ বহন করতে হয়। তাই বাসশিল্পকে বাঁচাতে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ জরুরি।
উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বরও ন'দফা দাবি জানিয়ে পরিবহণ দফতরে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল সংগঠনটি। পুজোর পর ভাড়া নিয়ে আলোচনার আশ্বাসও মিলেছিল বলে দাবি বাসমালিকদের।
তবে সরকারের তরফে এখনও এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত সম্মতি মেলেনি। পরিবহণ দফতরের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে বাসমালিক থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রীরা। প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষের মাসিক খরচ কতটা বাড়বে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।




