কলকাতা: এক হাতে বই, আর সেই বই ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন চর্চা! কলকাতার বইমিছিলে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের হাতে দেখা গেল স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা একটি বিশেষ বই। নাম ‘স্বামী বিবেকানন্দ স্টাডিজ ইন সোভিয়েত ইউনিয়ন’। প্রকাশক রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচার। আর এই বই বেছে নেওয়ার পিছনে কী রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।
শনিবার কলকাতায় বইয়ের পক্ষে আয়োজিত মিছিলে অংশ নেন সেলিম। তাঁর হাতে থাকা বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত এই বইয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের গবেষকদের বিবেকানন্দ বিষয়ক গবেষণা সংকলিত হয়েছে। অর্থাৎ, যে সোভিয়েত ইউনিয়ন একসময় কমিউনিস্ট ভাবধারার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেখানেও স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে চর্চা হয়েছিল।
কিন্তু হঠাৎ এই বই কেন? সেই প্রশ্নের উত্তরে সেলিমের বক্তব্য, অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, কমিউনিস্টরা কেন বিবেকানন্দকে দূরে সরিয়ে রাখেন। আসলে তাঁদের জ্ঞান ও বোঝার পরিধি সীমিত বলেই এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই এই বই হাতে নিয়ে মিছিলে হাঁটার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের পিছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক অঙ্কও থাকতে পারে। ২০১৯ সালের পর থেকে বাংলায় বামেদের ভোটব্যাঙ্কের একটা বড় অংশ বিজেপির দিকে সরে গিয়েছে। বিশেষ করে উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে হিন্দু ভোটের এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বিবেকানন্দকে সামনে রেখে বামেদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন সেলিম, এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
সেলিমের সঙ্গে রামকৃষ্ণ মিশনের যোগাযোগও নতুন নয়। তিনি নিয়মিত মিশনে যাতায়াত করেন বলে জানা যায়। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই সম্পর্ক প্রকাশ্যে বিশেষ আলোচনায় আসেনি।
অন্যদিকে, শুধু সোভিয়েত ইউনিয়নেই নয়, চিনেও বিবেকানন্দকে নিয়ে গবেষণা ও আগ্রহ রয়েছে। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা ভারতীয় আধ্যাত্মিকতা নিয়ে চর্চার উদ্দেশ্যে রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, পুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টল ঘিরে একাধিক বিতর্ক ও সংঘাত তৈরি হয়েছিল। সেই আবহে বামেদের প্রকাশনা সংস্থাও বিবেকানন্দকে নিয়ে পুরনো কিছু বই নতুন করে প্রকাশ করেছে। এবার বইমিছিলে সেলিমের হাতে সোভিয়েত গবেষণার এই সংকলন যেন আরও একবার স্পষ্ট করল, বিবেকানন্দকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে বামেরা।




