কলকাতা: দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের ‘ভোট চুরি’ আন্দোলনের পালটা এবার কলকাতার রাজপথে বিজেপির শক্তিপ্রদর্শন। সোমবার কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ মিছিলের শেষে বিরোধীদের একযোগে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এসআইআর ইস্যুতে বিরোধীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তাঁর মন্তব্য, “এসআইআর মানে, অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও। তাই এরা অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে।”
বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি থেকে বাঁচতে, জেলে যাওয়া এড়াতে, পরিবারতন্ত্র বজায় রাখতে এবং তোষণের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতেই বিরোধীরা একজোট হয়েছে। তিনি বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টি ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে ২ কোটি ৯২ লক্ষ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে।”
এরপর আরও আক্রমণাত্মক সুরে শুভেন্দু বলেন, “দিমাগি নকশাল, জেহাদি, জঙ্গি, মাওবাদী, পরিবারবাদী, ভ্রষ্টাচারী, এইসবকে উপড়ে ফেলার কাজ আমাদের করতে হবে।” বিরোধীদের উদ্দেশে ‘আরশোলা’, ‘ছারপোকা’ এবং ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর মতো শব্দবন্ধও ব্যবহার করেন তিনি। সাধারণ মানুষকে এদের থেকে সতর্ক থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু এসআইআর নয়, আগামী পুরসভা নির্বাচনকেও পাখির চোখ করেছে বিজেপি। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনে বিরোধীদের পরাজিত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দুর ঘোষণা, “আগামিদিনে কলকাতা ও হাওড়া পৌরনিগম নির্বাচনে ওদের সাফ করে জবাব দিয়ে দেব।”
উল্লেখ্য, বিরোধীদের ‘ভোট চুরি’ অভিযোগ এবং এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা হিসেবেই বিজেপির এই কর্মসূচি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মিছিলকে ঘিরে সোমবার কলকাতার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়ায়। আগামী পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই আরও জোরদার করার বার্তাও দিল গেরুয়া শিবির।




