নিউজ ডেস্ক: দেশের রেল যোগাযোগে আসতে চলেছে নতুন যুগ! বন্দে ভারতকে ছাপিয়ে এবার ভারতের রেলপথে ছুটতে চলেছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বুলেট ট্রেন। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৮০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম এই অত্যাধুনিক ট্রেন ঘিরে ইতিমধ্যেই বাড়ছে আগ্রহ। শুধু মুম্বই-আমেদাবাদ নয়, ভবিষ্যতের প্রস্তাবিত রুটে জায়গা পেয়েছে বাংলাও। এমনকী উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি স্টেশনও যুক্ত হতে পারে এই হাইস্পিড রেলপথে।
বেঙ্গালুরুর ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেড (বিইএমএল) তৈরি করছে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন। আট কামরার এই ট্রেনটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ২০২ মিটার। সর্বাধিক ৫৫৭ জন যাত্রী একসঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন। ট্রেনে থাকবে সাতটি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাস এবং একটি এক্সিকিউটিভ ক্লাস কামরা। প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে দু’টি আসন।
যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে কামরাগুলিতে রাখা হচ্ছে প্রশস্ত আসন, আধুনিক এলইডি আলো এবং লাগেজ রাখার বিশেষ ব্যবস্থা। ট্রেনের দু’প্রান্তেই থাকবে চালকের কেবিন। ফলে দুই দিক থেকেই ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
গতি কত হবে? নির্মাতা সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার। তবে গড়ে ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার গতিতে চলার পরিকল্পনা রয়েছে। তুলনায় বর্তমানে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার।
প্রথম পর্যায়ে ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বই-আমেদাবাদ হাইস্পিড করিডরে চলবে বুলেট ট্রেন। এই প্রকল্পের পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। মুম্বই ও আমেদাবাদের পাশাপাশি পুণেতেও স্টেশন তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ভবিষ্যতের দিল্লি-গুয়াহাটি হাইস্পিড করিডর। প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, আগরা, কানপুর, লখনউ, বারাণসী, পাটনা হয়ে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি ছুঁয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এই ট্রেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দিল্লি থেকে গুয়াহাটি যেতে সময় লাগতে পারে মাত্র আট ঘণ্টা।
অর্থাৎ, প্রস্তাবিত প্রকল্প কার্যকর হলে বাংলার উত্তর প্রান্তও যুক্ত হতে পারে দেশের দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে। তবে দিল্লি-গুয়াহাটি রুটের পরিকল্পনা এখনও ভবিষ্যতের প্রস্তাবিত প্রকল্প। কবে নির্মাণ শুরু হবে বা কবে পরিষেবা চালু হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সময়সীমা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। আপাতত দেশীয় প্রযুক্তির এই বুলেট ট্রেনের অপেক্ষায় রেলযাত্রীরা।




