নয়াদিল্লি: জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং সাংবাদিক নিধি রাজদানের বিয়েকে ঘিরে এবার তৈরি হল ধর্মীয় বিতর্ক। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার দু’দিনের মধ্যেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি তুললেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মৌলানা মুফতি শাহাবুদ্দিন রিজভি বেরেলভি। তাঁর দাবি, ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী এই বিয়ে বৈধ নয়। তবে ধর্মীয় নেতার এই মন্তব্যের পরেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং দেশের প্রচলিত আইনে বিয়ের বৈধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কেন এই আপত্তি?
ওই ধর্মীয় নেতার বক্তব্য, ইসলামি বিধান অনুযায়ী মুসলিম পুরুষের সঙ্গে মুসলিম মহিলার বিয়েই শরিয়তসম্মত। তাঁর দাবি, ওমর আবদুল্লা মুসলিম হলেও নিধি রাজদান মুসলিম নন। তাই ইসলামি নিয়ম অনুসারে তাঁদের বিয়েকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না।
এখানেই থেমে থাকেননি মৌলানা রিজভি। তাঁর বক্তব্য, বিয়ের আগে ওমর আবদুল্লার উচিত ছিল নিধিকে ইসলাম গ্রহণ করতে বলা। নিধি ইসলাম গ্রহণ করার পর ইসলামি রীতি ও প্রথা মেনে নিকাহ হলে তবেই এই বিয়ে শরিয়তসম্মত হতে পারত বলে দাবি করেন তিনি।
কী বলছে ধর্মীয় বিধান?
মৌলানার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইসলামি বিবাহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। তাঁর দাবি, সেই শর্ত পূরণ না হওয়ায় ওমর ও নিধির বিয়েকে তিনি ‘নাজায়েজ’ বলে মনে করেন। তবে এটি সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতার নিজস্ব ব্যাখ্যা ও অবস্থান। তাঁর মন্তব্যকে সব মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
আইন কী বলছে?
ধর্মীয় আপত্তির পাশাপাশি এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারতের আইনি ব্যবস্থা। দেশের আইনে কোনও বিয়ের বৈধতা নির্ধারিত হয় প্রযোজ্য বিবাহ আইন এবং সংশ্লিষ্ট আইনি শর্তের ভিত্তিতে। কোনও ধর্মীয় নেতার ফতোয়া বা ব্যক্তিগত মতামত একাই কোনও বিয়ের আইনি বৈধতা নির্ধারণ করতে পারে না।
ফলে ওমর আবদুল্লা ও নিধি রাজদানের বিয়েকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ধর্মীয় ব্যাখ্যা বনাম ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত দম্পতির কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।




